বসন্তের শুরুতেই সৌরভ ছড়াচ্ছে আমের মুকুল

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী অঞ্চলে বসন্তের শুরুতেই সৌরভ ছড়াচ্ছে আমের মুকুল। মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে এখনই মৌ মৌ করতে শুরু করেছে চারিদিক। ফাগুনের স্নিগ্ধ বাতাসে মুকুল ছড়াচ্ছে সুবাস।
বসন্তের ফাগুন আর আমের মুকুল যেন একই সুতোয় গাঁথা। বছরের নির্দিষ্ট এই সময়জুড়ে তাই চাষি তো বটেই, কমবেশি সব শ্রেণির মানুষেরও দৃষ্টি থাকে সবুজ পাতায় ঢাকা আমগাছের শাখা-প্রশাখায়।
বিশেষত মাঘের শেষে রাজশাহীর আমগাছে মুকুল আসে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আগে রাজশাহীতে আমের মৌসুমে ‘অফ ইয়ার’ এবং ‘অন ইয়ার’ থাকতো। রাজশাহীর আমচাষিদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই রেওয়াজ ভেঙেছে। বছরজুড়ে চাষিদের নিয়মিত পরিচর্যার কারণে এখন রাজশাহীর সব বাগানেই প্রতিবছরই আমের আশানুরূপ ফলন বাড়ছে।
আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত রাজশাহীতে শতাধিক জাতের সুস্বাদু ও রসালো মিষ্টি আমের উৎপাদন হয়। জেলায় ১৭ হাজার ৫ শ হেক্টর আমবাগান রয়েছে। এবারও জাত আম খ্যাত গোপালভোগ ও ল্যাংড়া, ক্ষিরসাপাত, বোম্বাই, হিমসাগর, ফজলি, আম্রপলি, আশ্বিনা, ক্ষুদি, বৃন্দাবনী, লক্ষণভোগ, কালীভোগ, তোতাপরী, দুধসর, লকনা এবং মোহনভোগ আমই বেশি চাষ হয়েছে।
রাজশাহীতে সবচেয়ে বেশি আম হয় চারঘাট, বাঘা, পুঠিয়া ও পবা উপজেলায়। এছাড়াও অন্য উপজেলাতেও প্রচুর আম হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলার ছাড়াও মহানগরীর রায়পাড়া, পুলিশ লাইন, ভেড়িপাড়া, ছোটবনগ্রাম, গৌরহাঙ্গা, শিরোইল, মালোপাড়া, মেহেরচÐী ও ভদ্রা আবাসিক এলাকায় বেশ কিছু আমগাছে প্রচুর মুকুল এসেছে।
রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডক্টর আলীম উদ্দিন জানান, মাঘের শুরুতে শীতের তীব্রতা ছিল। এরই মধ্যে মুকুল চলে এসেছে অনেক গাছে। এখন কোনো কারণে যদি কুয়াশা পড়ে তাতে আমের মুকুল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু আবহাওয়া যদি রৌদ্রোজ্জ্বল হয় এবং তাপমাত্রা একটু একটু করে বাড়ে তবে সমস্যা হবে না।
এদিকে মুজিববর্ষ উপলক্ষে এবছর রাজশাহী থেকে শতভাগ বিষমুক্ত আম জাতিকে উপহার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এই লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ, আম গবেষণা কেন্দ্র ও চাষিরা কাজ করে যাচ্ছেন।

শর্টলিংকঃ