বনের পাখি বনে গেল

বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার বেড়া উপজেলায় বিভিন্ন প্রজাতির ৬৫টি বন্যপাখি উদ্ধার করেছে বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিট। শনিবার বিকালে অভিযান চালিয়ে পাখিগুলোকে উদ্ধার করে পরে অবমুক্ত করা হয়। পাখিগুলো বেড়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামের লিটন মিয়া বিক্রির জন্য পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স’ান থেকে সংগ্রহ করে এনেছিলেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত লিটন মিয়াকে (৪৫) বন্যপাখি ধরা ও ব্যবসার অভিযোগে ছয়মাসের কারাদ- প্রদান করেন। ওইদিন সন্ধ্যার দিকে জব্দ করা পাখিগুলো বেড়া উপজেলার যমুনা নদীর কাজিরহাটের চরাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, বেড়া উপজেলার জাতসাকিনী ইউনিয়নের নয়াবাড়ি গ্রামের লিটন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বন্যপাখির ব্যবসা করে আসছিলেন। এ জন্য তিনি পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অতিথি ও দেশি পাখি সংগ্রহ করতেন। বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিট বিষয়টি সম্পর্কে খবর পেয়ে বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আনাম সিদ্দিকীকে অবগত করে। শনিবার বিকাল পাঁচটার দিকে ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করে বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিটের কর্মকর্তাদের নিয়ে লিটন মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালান। এ সময় সেখান থেকে লিটন মিয়াকে আটক ও আট প্রজাতির ৬৫টি পাখি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা পাখির মধ্যে ১০টি সরালি, ২৫টি কালিম, ১৫টি চখাচখি, চারটি বালিহাঁস, তিনটি ডুবুরি, একটি ময়না, চারটি টিয়া, তিনটি শালিক রয়েছে। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতে লিটন মিয়াকে ছয়মাসের কারাদ- প্রদান করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে পাখিগুলোকে উপজেলার কাজিরহাটের কাছে চর এলাকায় নিয়ে গিয়ে অবমুক্ত করা হয়। এ সময় সেখানে ইউএনও আসিফ আনাম সিদ্দিকী, বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক আব্দুলৱাহ আস-সাদিক, বেড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা এজাহিদ হোসেন উপসি’ত ছিলেন।
ইউএনও আসিফ আনাম সিদ্দিকী বলেন, বন্যপ্রাণি ধরা, পরিবহন ও বিক্রি আইনত অপরাধ। এ কারণে লিটন মিয়াকে ছয়মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। আর উদ্ধার করা বেশির ভাগ পাখি জলজ এলাকার বলে সেগুলোকে যমুনার চরে নিয়ে মুক্ত করা হয়েছে।

শর্টলিংকঃ