বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল অনুপ্রেরণা


।।ফজলে হোসেন বাদশা।।

জাতির অবিসংবাদিত নেতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই জাতিকে প্রথম স্বাধীনতার স্বাদ পেতে স্বপ্ন দেখান। বঙ্গবন্ধুর দৃঢ় নেতৃত্বে পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জন করে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধুর ২৩ বছরের সংগ্রাম ও স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে সাড়ে তিন বছরের শাসনামল পুরোটাই মুক্তির সংগ্রামের ইতিহাস।

৭৫-এর ১৫ আগস্ট দেশি-বিদেশি ষড়ন্ত্রের শিকার হয়ে সপরিবারে নিহত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই থেকেই আগস্ট মাস বাঙালি জাতির জন্য শোকের মাস হিসেবে নানা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির ভেতর দিয়ে পালন করে আসা হয়। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ মুক্তিকামি সাড়ে ৭ কোটি বাঙালির মতো তার কাছেও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর সেদিনের সেই ভাষণ আজও আমার স্পষ্ট মনে আছে। ছাত্রসমাজ থেকে শুরু করে সর্বস্তরের তরুণ সমাজকে কীভাবে উজ্জীবিত করত সেই দিনই আমি নিজ চোখে দেখে বিস্মিত হয়েছি। যা আজও আমার মনে দাগ কেটে আছে।

বঙ্গবন্ধুর কথা বলতে গেলে আমাকে প্রথমেই ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের কথা বলতে হয়। যদিও আমি সেদিন অনেকের মতো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার সুযোগ পাইনি। তবে রেডিওতে সেদিন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে অনুপ্রাণিত হয়েছি। সেদিন পুরো জাতি বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণের অপেক্ষায় ছিল। আমরাও ভাষণ শোনার অপেক্ষায় ছিলাম। এছাড়া বঙ্গবন্ধু যেদিন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন সেই দিনটি আমার জীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে বঙ্গবন্ধু যেদিন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন জাতির জন্য সে দিনটি ছিল একটি উৎসবের দিন। পাকিস্তানি পুলিশ বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে আমরা সেদিন আনন্দ মিছিল করেছিলাম। সেই দিনটিও আমার জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন ছিল।

বঙ্গবন্ধু যেদিন পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে এলেন সেই ১০ জানুয়ারির দিনটিও আমাদের সবার জন্য একটা উজ্জ্বলময় দিন। সর্বশেষ যে স্মৃতিটি মনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাগ কেটেছিল, দিনটি হলো: বঙ্গবন্ধু যেদিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন সেই দিনের ভাষণ আজও পুরোপুরি স্মরণ রয়েছে। সবেমাত্র আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। তখন ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছিলাম। বঙ্গবন্ধু সেদিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের উদ্দেশে দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবনে যে ভাষণ দিলেন, সেই দিনই আমি প্রথম বঙ্গবন্ধুকে সামনাসামনি দেখি।

সেইদিন বঙ্গবন্ধু যে ভাষণ দিয়েছিলেন সেই ভাষণটা আমার জীবনে প্রত্যক্ষভাবে দেখা সেরা ভাষণ। যা আমার কাছে আজও স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। বঙ্গবন্ধু ছাত্র সমাজ যুব সমাজকে কীভাবে উদ্বুদ্ধ করতেন তা সেদিন আমি সামনাসামনি প্রত্যক্ষ করি। বঙ্গবন্ধুর সেই চিন্তা সেই দর্শন আজও আমাকে অনুপ্রাণিত করে। সেই চেতনা ধারণ করেই আমরা আজও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে রাজনীতি করছি। ১৪ দল যে ২৩ দফার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেখানে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ তথা ৭২-এর সংবিধান পুনপ্রতিষ্ঠা করার ওপর আমরা জোর দিয়েছি।

যে ধারা ৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলণ্ঠিত করার যাত্রা শুরু হয়। সেদিন ভোর বেলায় যখন এ খবরটা শুনলাম, সেই সময় বুঝতে পেরেছিলাম বাংলাদেশ আবার অন্ধকারের দিকে যাওয়া শুরু করবে। পরবর্তী সময় আমার সব রাজনীতি হয়েছে বঙ্গবন্ধুর দর্শন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনপ্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই করে গেছি। আজও করে যাচ্ছি।

সেখান থেকে দেশকে আবারও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সামনের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আজও আমরা বঙ্গবন্ধুর কন্যা, ১৪ দলীয় জোট নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দল নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠা করার লড়াই ১৪ দল আজও করে যাচ্ছে।

লেখক: সংসদ সদস্য, রাজশাহী-২ (সদর)
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ