বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের মৃত্যু পরোয়ানা জারি

সোনালী ডেস্ক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালত। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিকালের মধ্যেই আদেশের কপি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাবে।
গতকাল বুধবার বেলা দেড়টার দিকে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ হেলাল চৌধুরী এ পরোয়ানা জারি করেন। এর আগে দুপুরে আব্দুল মাজেদকে কারাগার থেকে আদালতে নেয়া হয়। পরে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত তার মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন।
২১ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে তার ফাঁসি কার্যকর হবে বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন। আবদুল মাজেদকে সোমবার রাতে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গত মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার না দেখানো পর্যন্ত জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করেন কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-পুলিশ পরিদর্শক জহুরুল হক। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) এ এম জুলফিকার হায়াত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর আলোচিত এই খুনি ২৩ বছর ধরে কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। তিনি গত ১৬ মার্চ ঢাকায় ফিরেন। আবদুল মাজেদ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আরও কয়েকজন খুনির সঙ্গে ব্যাংকক হয়ে লিবিয়া চলে যান। এরপর তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান তাকে সেনেগালের দূতাবাসে বদলি করেন। ১৯৮০ সালে দেশে ফিরে আসার পর মাজেদকে বিআইডব্লিউটিসিতে চাকরি দেন জিয়া। সে সময় উপসচিব পদমর্যাদায় তিনি চাকরি করেন। আর সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান। পরে তিনি সচিব পদে পদোন্নতি পান। পরে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ে পরিচালক পদে যোগদান করেন।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার শুরু করে। সে সময় আত্মগোপনে চলে যান মাজেদ। মাজেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর এখন বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ খুনি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন খন্দকার আবদুর রশীদ, শরিফুল হক ডালিম, মোসলেম উদ্দিন, এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী, এ এম রাশেদ চৌধুরী। তারা সবাই সাবেক সেনা কর্মকর্তা।

শর্টলিংকঃ