ফ্ল্যাট কেনা-বেচায় রাজস্ব ফাঁকি রোধ করতে হবে

রাজশাহী মহানগরীতে দিন দিন ডেভলপারদের আবাসন ব্যবসার প্রসার ঘটছে। তাদের ফ্ল্যাট বিক্রিতে সরকার পাচ্ছে রাজস্ব। কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন পেশাজীবীরাও এই আবাসন ব্যবসা শুরু করেছেন। বিভিন্ন পেশার মানুষ একত্রিত হয়ে গড়ে তুলছেন বহুতল ভবন। বিক্রি করছেন ফ্ল্যাট। এসব ফ্ল্যাট কেনাবেচা থেকে পুরোপুরি রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। তাদের আর্থিক লেনদেনের কোনরকম হিসাবই পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল দৈনিক সোনালী সংবাদে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

রাজশাহী কার্যালয়ের কর কমিশনারের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত ওই সংবাদে বলা হয়েছে, ডেভলপার কোম্পানি যদি ফ্ল্যাট বিক্রি করে তাহলে অবশ্যই তার রেজিস্ট্রি হয়। রেজিস্ট্রির সময় সরকার রাজস্ব পায়। কিন্তু কোন সাধারণ মানুষ বা অন্য পেশাজীবীরা যদি বহুতল ভবন করে ফ্ল্যাট বিক্রি করেন, তাহলে সব সময় রেজিস্ট্রি না-ও হতে পারে। কখনও কখনও দেখা যায় রেজিস্ট্রি না করে স্ট্যাম্পে একটা লিখিত চুক্তির মাধ্যমে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হয়। এতে রাজস্ব আদায় হয় না। এই ধরনের ফ্ল্যাট আবার ফাইলে তোলা হয় না।

অপ্রদর্শিত সম্পদ হিসেবে এটা রাখার সুযোগ আছে। তবে যদি ফাইলে নথিভুক্ত করা হয়, তাহলে সম্পদের ওপর কর আদায় হয়। কিন্তু সম্প্রতি রাজশাহীতে চিকিৎসক, প্রকৌশলী কিংবা অন্য সরকারি কোন বিভাগের কর্মকর্তারা একত্রিত হয়ে বহুতল ভবন গড়ে তুলছেন। ভবন নির্মাণের সময় অনেকে সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে ব্যাংক ঋণ পান। কিন্তু ভবন তৈরির পর ফ্ল্যাট কেনা-বেচার সময় ফাঁকি দেয়া হয় সরকারি রাজস্ব। এসব ভবনের কিছু ফ্ল্যাট নিজের মালিকানায় রেখে বাকিগুলো বিক্রি করে দিচ্ছে। এগুলো বিক্রির সময় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রেজিস্ট্রি করা হয় না। যারা কিনছেন তারাও রেজিস্ট্রি করে নিচ্ছেন না। অবৈধ উপায়ে আয় করা অর্থ কাজে লাগাতে কোন কোন সরকারি কর্মকর্তা শুধু চুক্তির মাধ্যমেই এভাবে ফ্ল্যাট কিনছেন। চুক্তিপত্রে স্ত্রী বা সন্তানের নাম উল্লেখ করে ফ্ল্যাটের মালিকানা বুঝে নেয়া হচ্ছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

এ অবস্থ্ায় নগরীতে বহুতল ভবন নির্মাতাদের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে নীতি-নৈতিকতার দিক থেকেই। আর যারা রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার মতো গর্হিত কাজ করছে, তাদের অপ্রদর্শিত সম্পদ খুঁজে বের করে করের আওতায় আনা জরুরি। নচেৎ আবাসন খাত বিশেষ করে ফ্ল্যাট কেনা-বেচায় কর ফাঁকির প্রবণতা রোধ করা সম্ভব নয়। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ