ফুল চাষে বাড়ছে আগ্রহ

  • 2
    Shares

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে প্রতিদিনই বাড়ছে ফুলের কদর। সেইসাথে বাজারে দামও বাড়ছে। ফলে ফুলের ভাল দাম পাচ্ছেন ফুল চাষিরা। তারা লাভবান হচ্ছেন। এ কারণে দিন দিন রাজশাহীতে ফুল চাষ বাড়ছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, স্থানীয় বাজারে ফুলের যে চাহিদা রয়েছে তার শতভাগ এখনো রাজশাহীতে উৎপাদন হয় না। আরও অন্তত ১০০ বিঘা জমিতে ফুল চাষ হলে চাহিদা মিটবে।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার হামিদকুড়া গ্রামের সোহেল রানা মাস্টার্স পাশের আগে শখের বসে বাড়ির পাশের পতিত ৩ শতক জমিতে গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ করেন। প্রথমবার ফুল চাষ করেই লাভবান হয়েছেন তিনি। মাত্র তিন হাজার টাকা খরচ করে তাঁর সেই জমিতে ফুল বিক্রি করেছেন ৮ হাজার টাকার। ফুল চাষে সাফল্য দেখে উৎসাহ বাড়তে থাকে তার।

সেই থেকে ফুল চাষের পরিকল্পনা নেন। শখের সেই ফুল এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন তিনি। আর বেকার জীবনে ফুলের চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন উচ্চ শিক্ষিত বেকার যুবক সোহেল রানা। বর্তমানে ২০ শতক জমিতে গাডিওলাস ফুলের চাষ করেছেন। খরচ বাদে ফুল বিক্রি করে তার ৩ মাসে আয় হয় ২ লাখ টাকা।

সোহেল বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে ২০১৫ সালে বাড়ির পাশের ৩ শতক পতিত জমিতে সাদা, হলুদ ও গোলাপি রঙের গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ করেন। যশোরের ঝিকরগাছা থেকে ফুলের বীজ সংগ্রহ করেন। প্রথম বছর প্রতিটি ফুলের স্টিক বিক্রি করেছেন ৭ থেকে ৮ টাকায়। ফুল চাষে বাড়তি আয়ের, চিন্তা থেকে পরের বছরে ৯ শতক জমিতে ফুলের চাষ করেন। সেই ফুল বিক্রি করে খরচ বাদে লাভ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছর ফুল চাষের পরিমাণ বাড়াতে থাকেন। ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ফুলের চাহিদা বেড়ে যায়। দামও তুলনামূলক বেশি থাকে। শুধু সোহেরই নয় ফুল চাষে ভাগ্য ফিরছে জেলার অন্য চাষীদেরও। আর তাই দিন দিন আগ্রহী হচ্ছেন চাষীরা।

জেলার গোদাগাড়ী উপজেলায় নানা প্রজাতির ফুল চাষ হচ্ছে। আর সে ফুল রাজশাহী নগরী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে অন্য জেলা থেকে ফুল আমদানির চাহিদা তুলানামূলকভাবে কমে গেছে। চলতি মৌসুমে গোদাগাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় গ্ল্যাডিওলাস, গাদা, গোলাপ, রজনীগন্ধা ও জারবেরাসহ বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের গোপালপুর ও মোহনপুর ইউনিয়নের বাউটিয়া এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হয়ে আসছে।

রাজশাহী জেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, রাজশাহী জেলায় প্রতিবছরই বাড়ছে ফুল চাষ। প্রতিবছর ফুল চাষে লাভবান হওয়ার কারণে দিন দিন আগ্রহ দেখাচ্ছেন চাষীরা। বর্তমানে জেলায় মোট ৫০ বিঘা জমিতে ফুল চাষ হচ্ছে। গোদাগাড়ী, মোহনপুর, বাঘা ও চারঘাট এলাকায় বাণিজিক ভাবে চাষ হচ্ছে। এসব এলাকায় মূলত গাঁদা, গ্লাডিওলাস ও জারবেরা চাষ হয়।

কৃষিবিদ শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, পরীক্ষামূলক গ্লাডিওলাস চাষে সাফল্য পাওয়া গেছে। কৃষকদের ফুল চাষে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি তাদের বীজ দিয়ে সহায়তা দেওয়া হবে। ফুল বিক্রির পর কৃষকেরা বীজও বিক্রি করতে পারবেন। তিন শতক জমি থেকে অন্তত ১০ হাজার টাকার চারা বীজ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। অল্প জমিতে স্বল্প সময়ে এই ফুল চাষ করে অধিক উপার্জন করা সম্ভব।

গোদাগাড়ীর কৃষক নাদিম হোসেন চার বিঘা জমিতে জারবেরা, গাদা, গোলাপ, রজনীগন্ধা ও গ্ল্যাডিওলাস ফুলের চাষ করেছে। তিনি বলেন, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে খুচরা ফুল বিক্রেতারা জমিতে এসে তাদের পছন্দ অনুযায়ী ফুল কিনে নিয়ে যান। তিনি লাভবান হচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সদ্য বদলি হওয়া উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, রাজশাহীতে দিন দিন ফুল চাষ বাড়ছে। তবে ব্যাপক হারে হচ্ছে না। অল্প অল্প করে চাষ করছেন তারা। রাজশাহীতে অনেক চাষী নতুন। কিছু সমস্যা আছে। তারা সার দেওয়া, চারা কোথায় পাওয়া যাবে এসব পরামর্শ দেয়া হয় কৃষি বিভাগ থেকে।

তিনি বলেন, রাজশাহীতে অনেক চাহিদা আছে। এটি মূলত বাণিজ্যিক আকারে গড়ে উঠবে। রাজশাহীতে যে পরিমাণ ফুল লাগে তাতে দেড়শো হেক্টর জমিতে ফুল চাষ করতে হবে। রাজশাহীর মাটিতে এটি সম্ভব। এগুলো চাষে অনেকেই সফল হচ্ছেন। কারণ এটি অনেক লাভজনক চাষ।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ