ফিটকিরির আজব গুণ!

  • 16
    Shares

অনলাইন ডেস্ক: ফিটকিরি এক প্রকার অর্ধস্বচ্ছ কাচ সদৃশ কঠিন পদার্থ যার স্বাদ মিষ্টি ও কষা এবং অত্যন্ত শুষ্ক প্রকৃতির। সাধারণত পানিকে পরিশোধিত করতে ফিটকিরি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এই ছোট্ট জিনিসটা আরো বিভিন্ন কাজে লাগে। ত্বকের সমস্যা থেকে শরীরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঠেকাতে ফিটকিরি খুবই কাজের জিনিস। ফিটকিরি কয়েক প্রকার। তবে ওষুধে ব্যবহারে জন্য লাল রং এর কাচ সদৃশ বা স্বচ্ছ ফিটকিরি সবচেয়ে উত্তম।

আগেকার দিনে তো আর এখনকার মতো ফিল্টার ছিল না। বাড়ির বয়স্ক মানুষটিকে দেখা যেত, জলে এক টুকরো ফিটকিরি ফেলে নিশ্চিন্ত হতেন। জল পরিস্রুত হয়ে, নোংরা থিতিয়ে পড়ত নীচে। অনেক সময় দাড়ি কাটতে গিয়ে ব্লেডে গালটা আচমকা কেটে গেলে, স্যাভলন বা কোনো আফটারসেভের খোঁজ পড়তো না। হাতের কাছে থাকা ফিটকিরির ডেলা গালে ঘষে নিতেন। ব্যস, রক্ত বন্ধ। এমন প্রচুর গুণ কিন্তু রয়েছে ফিটকিরির।

আসুন জেনে নেয়া যাক, ফিটকিরির এমন বেশ কিছু ব্যবহার যা হয়তো আপনার অজানা!

ফিটকিরি পানিতে দ্রবণীয় এর প্রতি অণুতে ২৪ অণু কেলাস পানি বিদ্যমান। আগুনে তাপ দিলে গলে তরল হয়। তাপ অব্যাহত রাখতে কেলাস পানি উড়ে চলে যায়। লবণগুলো ফুলে ফেনার মত ফুটতে থাকে। সবশেষে এবড়ো থেবড়ো দানাদার গুড়ায় পরিণত হয়।

ফিটকিরির ব্যবহার

পানি বিশুদ্ধকরণ: দূষিত পানিতে কিছু ফিটকিরি মেশালে পানির ময়লাগুলো নিজেরা নিজেদের সাথে লেগে ভারি হয়ে পানির নিচে জমা হয়। উপরে বিশুদ্ধ পানি অবস্থান করে। বাংলাদেশে বন্যা, জলোচ্ছ্বাস মহামারি আকারে লেগেই থাকে। বিশুদ্ধ খাবার পানি তীব্র সংকট দেখা দেয়। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বাংলাদেশের জন্য ফিটকিরিকে সবচেয়ে সস্তা, কার্যকর ও উপযুক্ত জীবাণুনাশক ওষুধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এন্টিসেপ্টিক হিসেবে: বাড়িতে কারো চামড়া কেটে গেলে, ছিলে গেলে ঐ জায়গা পানিতে ধুয়ে ফিটকিরি দিলে রক্ত পড়া বন্ধ হয়। জীবাণু সংক্রমণ হয় না।

সর্বঘটের কাঁঠালি কলা: তা আপনি বলতেই পারেন। আগে তো বাড়ির মেয়েরা রূপচর্চা করতেও ফটকিরি ব্যবহার করতেন। তার কারণ, বলিরেখা পড়তে দেয় না। তা ছাড়া, যেহেতু অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, তাই দাঁতের রোগেও কিন্তু ফিটকিরি ভালো কাজ দেয়।

আঙুলে হাজা: অতিরিক্ত জল ঘাঁটার কারণে হাতে হাজা হলে, বা, পায়ের পাতা ফুললে, নিশ্চিন্তে ফটকিরি ব্যবহার করতে পারেন। এক টুকরো ফটকিরি জলে ফেলে, জলটা ভালো করে গরম করে নিন। ঠাণ্ডা হয়ে গেলে, পা চুবিয়ে রাখুন। দুরন্ত আরাম পাবেন।

হঠাৎ রক্ত: দাড়ি কাটতে গিয়ে গালটা কেটে গেলে, সেলুনে এখনও ফটকিরি ঘষে দেয়। যদি, গাল কাটাই নয়, যে কোনও আঘাতে রক্তপাত হলে, সেখানে ফটকিরি চূর্ণ করে দিয়ে দিন। কিছুক্ষণের মধ্যেই রক্ত বেরোনো বন্ধ হবে।

টনসিলে আরাম: ঠাণ্ডা লেগে গলায় ব্যথা হলে বা গ্ল্যান্ড ফুললে, গরম জলে এক চিমটে নুন ও ফটকিরি চূর্ণ মিশিয়ে, দিনে কয়েকবার গার্গেল করুন। স্বস্তি পাবেন।

ব্রণ-ফুসকুড়ি: মুখে ব্রণ-ফুসকুড়ি হচ্ছে? মুখ ড্রাই হয়ে, চামড়া কুঁচকে যাচ্ছে? চিন্তা করবেন না। ভালো করে মুখ ধুয়ে নিয়ে, সারা মুখে অনেকক্ষণ ধরে ফটকিরি ঘষুন। বা ফটকিরি চূর্ণ জলে গুলে, মুখে মাখুন। শুকিয়ে গেলে, কিছুক্ষণ পর মুখটা ধুয়ে ফেলুন। এ ভাবে কিছু দিন করলে, মুখে উজ্জ্বলতা ফিরবে। ব্রণ-ফুসকুড়ির হাত থেকেও মুক্তি পাবেন।

দাঁতে যন্ত্রণা: দাঁতের যন্ত্রণায় ভুগেছেন? বা, মুখ দিয়ে দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে? সব মাজনে চেষ্টা করেও, মুখের গন্ধ যাচ্ছে না? তাই কী করবেন, বুঝে উঠতে পারছেন না? আপনাকে এই সমস্যার হাত থেকে মুক্তি দিতে পারে ফটকিরি। গরম জলে ফটকিরি গুলে নিয়ে, কুলকুচি করুন। আপনি দাঁতের যন্ত্রণার হাত থেকে নিশ্চিতভাবেই মুক্তি পাবেন। মুখের দুর্গন্ধ নিয়ে লজ্জায় পড়তে হবে না

ঘেমে চান: গরমে ঘাম তো হবেই। কিন্তু, যারা খুব বেশই ঘামেন, পরনের জামা ছুপছুপে হয়ে ভিজে যায়, তাঁদের এই বিরক্তিকর অবস্থার হাত থেকে স্বস্তি দিতে পারে এক টুকরো ফটকিরি। চানের সময় এক টুকরো ফটকিরি জলে ভালো করে মিশিয়ে, গায়ে ঢেলে দিন। কিছু দিন এ ভাবেই স্নান করুন। স্বস্তি মিলবে।

উকুন ধ্বংসে: চুলে উকুন হয়েছে? চিন্তা নেই, ফিটকিরিই দূর করে দিবে উকুন। ১/২ লিটার জলে ৪ গ্রাম ফিটকিরি মিশিয়ে নিন। এবার মাথার তালুতে লাগান। ৩০ মিনিট পরে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ১/২ দিন ব্যবহার করুন।

মাথা ব্যথা সারাতে: লাল কাচা ফিটকিরি ১ গ্রাম ও ছোট এলাচি বীজ ৬ গ্রাম উভয় উপাদানকে পৃথক পৃথক কুটে পিষে কাপড়ে ছেঁকে নিতে হয়। অল্প কিছু জলসহ পান করলে মাথা ব্যথা দ্রুত সেরে যায়।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ