ফাগুনের দিনে বসলো বাহারি ফুলের মেলা

স্টাফ রিপোর্টার: অন্তত ৫০০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফুল। টবে ফুলের গাছগুলো সাজানো থরে থরে। কেউ দেখছেন, কেউ কিনছেন। কেউবা ব্যস্ত ছবি তুলতে। মনে দোলা লাগানো ফাগুনের প্রথম দিনেই এমন ফুলের মেলা বসেছে রাজশাহীতে। মেলার বাহারি সব ফুল জানিয়ে দিচ্ছে ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী বার্তা।
রাজশাহী মহানগরীর সিঅ্যান্ডবি এলাকায় মনিবাজার চত্বরে এই পুষ্পমেলার আয়োজন করা হয়েছে। রাজশাহীর বৈকালী সংঘ এর আয়োজক। এতে পৃষ্ঠপোষকতা করছে ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড। বৈকালী সংঘ প্রতিবছরই এ মেলার আয়োজন করে থাকে। এবারের আয়োজন ১৫তম। আর ওয়ান ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় পঞ্চম। মেলার নাম- ‘ওয়ান ব্যাংক পুষ্পমেলা-২০২০’। এবার বসন্ত এবং বিশ্ব ভালোবাসা দিবস একই দিন এবং সেদিনই পুষ্পমেলা বাড়তি আকর্ষণ বয়ে এনেছে।
পুষ্পমেলায় এবার ২৪টি স্টল অংশ নিয়েছে। গতবছর স্টলের সংখ্যা ছিলো ১৮টি। এবার রাজশাহী ছাড়াও বাইরের জেলা থেকে নার্সারি মালিকরা স্টল দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, মেলায় অন্তত ৫০০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফুল রয়েছে। ভালোবাসা দিবস বলে শুধু গোলাপেরই ২৫০টি প্রজাতির সমারোহ ঘটনা হয়েছে। গাঁদা ফুল রয়েছে নানা প্রজাতির। এছাড়া রয়েছে, ডালিয়া, ক্যানচো, ইনসেফিয়া, পেঞ্জি, পানচাটিয়া, পিটুনিয়া, ইফোরভিয়া, স্টোক, ড্যানথাস, ন্যাশটেশিয়াম, ভারবেনা, কসমস, জিপসি, কানেসান, সিনারিয়া, লিলিয়ামের মতো নানা প্রজাতির বিদেশি ফুল। সূর্যমুখি, ডালিয়া, রজনীগন্ধা, চন্দ্রমল্লিকা, সাদাপাপড়িসহ আরও নানা প্রজাতির ফুল এখন মেলায় সুবাস ছড়াচ্ছে।
মায়ের দোয়া নার্সারির মালিক বায়েজিদ বোস্তামি জানালেন, ভালোবাসা দিবসে মেলা শুরু হওয়ায় তিনি স্টলে ২৩০ প্রজাতির গোলাপই এনেছেন। ফুলসহ গোলাপের টবের দাম সর্বনি¤œ ৫০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা। মা নার্সারির বিক্রয়কর্মী শাহিন মোল্লা জানান, তাদের স্টলে প্রায় ২৫০ প্রজাতির ফুল রয়েছে। গাঁদা ফুলের গাছ সর্বনি¤œ ১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আর বনসাই করা বাগান বেøইজের দাম সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা। জেসমিন নার্সারির মালিক রফিকুল ইসলাম জানালেন, তার দোকানে ফুল গাছের দাম সর্বনি¤œ ৩০ টাকা। সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা দামের ফুলগাছ রয়েছে তার। মেলায় ঘুরতে এসে রাজশাহীর নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী তানিয়া তাবাসসুম বলেন, প্রতিবছরই এখানে মেলা হয়। প্রতিবছরই ঘুরতে আসি। ফুল কিনি। এবার এসে মনে হচ্ছে- ঋতুরাজ বসন্তের দিন ফুলের রাজ্যে হারিয়ে গেছি। চারদিকে শুধু ফুল আর ফুল। একসঙ্গে এতো ফুল আগে দেখিনি।
ছুটির দিনে স্ত্রীকে নিয়ে পুষ্পমেলায় যেতে ভুল করেননি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আনোয়ার হাবিব। তিনি বলেন, ফুল বিশুদ্ধতা, পবিত্রতা আর ভালোবাসার প্রতীক। ফুল মন প্রফুল্ল করে, মনকে সতেজ রাখে। পহেলা ফাগুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে এমন আয়োজন সত্যিই চমৎকার। স্ত্রীকে দেখিয়ে আনোয়ার বলেন, আজ ও যতগুলো ফুল গাছ চাইবে ততগুলোই কিনে দেব।
মেলায় ফুলসহ টবে গাছ বিক্রির পাশাপাশি শুধু ফুল বিক্রিরও স্টল রয়েছে। স্টলটির নাম রাফিয়া পুষ্প বিতান। মেলার উদ্বোধনের আগেই তরুণ-তরুণীরা ফুল কিনতে ভিড় জমান সেখানে। স্টল মালিক আবদুল হালিম রতন জানান, প্রতিটি গোলাপ তিনি বিক্রি করছেন ৫০ টাকায়। মাথায় দেয়া ফুলের ব্যান্ডের দাম ২০০ টাকা। রতন বলেন, বসন্ত উৎসব ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে শহরে যে দামে ফুল ও ব্যান্ড বিক্রি হচ্ছে তার চেয়েও তিনি কম দামে বিক্রি করছেন। বিক্রি হচ্ছে বেশ ভালো।
গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সুজায়েত ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে পুষ্পমেলার উদ্বোধন করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়ান ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াকার হাসান ও রাজশাহী শাখার প্রধান আবদুল মান্নান। সভাপতিত্ব করেন বৈকালী সংঘের সভাপতি মনিরুজ্জামান ছানা। স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক রইস উদ্দিন বাবু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আব্দুর রোকন মাসুম।
আয়োজকরা জানান, নতুন প্রজন্মকে হাজারো প্রজাতির ফুলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে খেলাধুলার পাশাপাশি প্রতিবছরই বৈকালী সংঘ পুষ্পমেলার আয়োজন করছে। পুষ্পপ্রেমিরা এই মেলাকে দারুণভাবে গ্রহণ করেছে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ এই মেলায় আসেন। তারা ফুলের গাছ কিনে বাড়ির ছাদ ও বেলকুনিতে বাগান করেন। এতে মানুষ মানুসিকভাবে যেমন তৃপ্তি পান, তেমনি আবার অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ করে আর্থিকভাবেও লাভবান হন।
প্রতিবছরের মতো এবারও পুষ্পমেলা উপলক্ষে শুক্রবার থেকেই শিশুদের আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, নৃত্য, দেশের গান ও ছড়ার প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়েছে। ‘ক’ গ্রæপে নার্সারি থেকে দ্বিতীয় এবং ‘খ’ গ্রæপে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এসব প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।
পাঁচ দিনের এ মেলা শেষ হবে আগামী ১৮ ফেব্রæয়ারি। সেদিন সমাপনি অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। এখন প্রতিদিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান মঞ্চে আয়োজন করা হচ্ছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

শর্টলিংকঃ