প্রবেশন ব্যবস্থার ব্যাপক প্রচলন জরুরি

দেশে অপরাধের সাথে সাথে অপরাধীর সংখ্যাও যে বেড়েছে তা নিয়ে দ্বিমতের সুযোগ কমই। সে কারণেই দেশের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে কারা সংশ্লিষ্টদের। বিশেষ করে ছোট অপরাধে লঘুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা কারাগারে থেকে অপরাধ প্রবণ হয়ে ওঠার ঝুঁকিতে পড়ে। এ অবস্থায় প্রথম ও লঘু অপরাধে দণ্ডিতদের প্রবেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে বাড়িতে থেকেই সাজা খাটার সুযোগ ইতিবাচক ফল দেবে সন্দেহ নেই।

সম্প্রতি সোনালী সংবাদে প্রকাশিত রাজশাহীর ২৩ কয়েদির বাড়িতে থেকেই সাজা খাটার খবর অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ‘দ্য প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিন্যান্স ১৯৬০’ অনুযায়ী এমন সাজায় কিছু শর্ত সাপেক্ষে বাড়িতে থেকেই নিজেদের ভুলত্রুটি সংশোধনের সুযোগ পেয়ে সাজাপ্রাপ্তরাও খুশি। এর ফলে বিচার ব্যবস্থা ও সরকারের প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতার শেষ থাকে না। নিজেদের সংশোধনের মাধ্যমে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার এমন সুযোগ অন্যদের জন্যও ইতিবাচক হবার সম্ভাবনাই বেশি।

বেশ পুরানো এই অধ্যাদেশ বলে বিচারকরা আসামি সম্পর্কে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তার পাক-প্রতিবেদন পেয়ে বাড়িতে থেকেই সাজা খাটার রায় দিয়ে থাকেন। সেই প্রতিবেদনে এটি তার প্রথম অপরাধ কি-না, সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা, প্রতিবেশিরা তাকে কীভাবে মূল্যায়ন করে ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ থাকে। রায় অনুযায়ী সাজার সময়ে আসামিরা সংশ্লিষ্ট সমাজকল্যাণ অফিসের একজন প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে থাকবেন। তবে এ অবস্থায় শর্ত ভাঙলে জেলে যাওয়া থেকে নিস্তার পাবেন না। প্রধান বিচারপ্রতির এক নির্দেশনায় অধস্তন আদালতের বিচারকরা অধ্যাদেশটি অনুসরণ করা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

প্রবেশনে সাজা খাটার ফলে নিজেকে সংশোধন ও অপরাধ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে আসামিরা উৎসাহিত হবেন, এতে সন্দেহ নেই। এর ফলে কারাগারগুলোতে উপচে পড়া বন্দি সংখ্যা যেমন কমে আসবে, তেমনি বিচারাঙ্গনের মামলাজট কমাতেও এই ব্যবস্থা সহায়ক হবে বলেই আদালত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। তাই প্রবেশন ব্যবস্থার ব্যাপক প্রচলন জরুরি।

দেশের আদালতগুলোতে এমন একটি পুরানো আইনের চর্চা কেন ব্যাপকভাবে ছিল না সেটা আমাদের জানা নেই। প্রধান বিচারপতির নির্দেশনার পর এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন আশা করা যায়। প্রয়োজনে আইনটি সংশোধন করা যেতে পারে। তবে এজন্য প্রবেশন কর্মকর্তার চাহিদা পূরণে তাদের নিয়োগ দিতে হবে, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়াতে হবে। তাহলেই আমরা আইনটির ইতিবাচক ফল পেতে পারি।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ