প্রবাসীদের দেশে না আসার অনুরোধ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

সোনালী ডেস্ক: খেলা, ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান সীমিত করার আহŸান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক, একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে না আসার অনুরোধ জানান তিনি। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবিলা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভা শেষে মন্ত্রী একথা জানান। এ সময় স্বাস্থ্য সচিব আসাদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত হ্যান্ডওয়াশের ব্যবস্থা করতে হবে। স্কুল চলবে স্বাভাবিক নিয়মে। মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক বলেন, আমরা জানুযারি মাস থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বিমানবন্দরে নতুন দু’টি স্ক্যানারসহ মোট ছয়টি স্ক্যানার বসানো হয়েছে। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে নৌ ও স্থলবন্দরগুলোতেও স্ক্যানার বসানো হবে। জনসচেতনতা বাড়াতে আগামী দু’দিনের মধ্যে সারা দেশে পোস্টার-ব্যানার পৌঁছে যাবে। ঢাকায় ৪শ থেকে ৫শ বেডের একটি হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি জেলায় ১শ বেডের হাসপাতাল প্রস্তুত করার আগের নির্দেশ দ্রæত বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। ডাক্তার ও নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে কোরিয়া, ইতালি, চীনসহ চারটি দেশের অনঅ্যারাইভাল ভিসা। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে কভিড-১৯ রোগী ধরা পড়লেও স্কুল-কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আপাতত স্বাভাবিকভাবেই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এদিকে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হলে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতেই তা নেওয়া হবে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম রোগী ধরা পড়ার কথা গত রোববার যে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিল আইইডিসিআর, তাতে সংস্থার পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছিলেন, স্কুল-কলেজ এখনই বন্ধের প্রয়োজন নেই। তিন মাস আগে চীনে সংক্রমণ ঘটার পর বিশ্বের শতাধিক দেশের লাখো মানুষকে আক্রান্ত এবং সাড়ে তিন হাজারের বেশি মৃত্যু ঘটানোর পর বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটেছে। ভাইরাস সংক্রমণের কারণে ইতালি, সৌদি আরব সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এলে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হচ্ছে কি না? উত্তরে তিনি বলেন, স্কুল-কলেজে বহিরাগতরা না আসায় ঝুঁকি কম থাকায় সেগুলো স্বাভাবিকভাবেই চলবে। স্কুল এখন স্বাভাবিকভাবে চলবে। পরবর্তী নির্দেশনা অন্য রকম যদি আসে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে। আমাদের পরামর্শ তখন আমরা দেব।

শর্টলিংকঃ