পেঁয়াজ চাষ বাড়াতে তৎপর কৃষি বিভাগ

স্টাফ রিপোর্টার: সম্প্রতি ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর অস্থির হয়ে উঠেছিল পেঁয়াজের বাজার। কয়েকদিনের ব্যবধানে দাম হয় দ্বিগুণ। আবার ভারত কিছু পেঁয়াজ রপ্তানি করবে, এই খবরে দাম কিছুটা কমেও। গত বছর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার ঘোষণার পর দাম রেকর্ড ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছিল।

পরিসংখ্যান বলছে- বিগত কয়েক বছর ধরে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসেই দেশে পেঁয়াজের সংকট দেখা দিচ্ছে। তাই সংকট মোকাবিলায় এবার পেঁয়াজ চাষে গুরুত্ব দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। সরকার ও কৃষি মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়াতে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহীতেও পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়াতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীতে তাহিরপুরি জাতের পেঁয়াজ চাষ সবচেয়ে বেশি হয়। চলতি রবি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১৬ হাজার ৭৯১ হেক্টর জমিতে তাহিরপুরি জাতের পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ছিল ১৬ দশমিক ৭৩ টন। মোট উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৮২ হাজার ৭৯৯ মেট্রিক টন। সেই হিসেবে আগামী মৌসুমে ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে উৎপাদিত পেঁয়াজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলায় বিক্রি করতে পারবেন কৃষকেরা।

বর্তমানে পেঁয়াজ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে দফায় দফায় কৃষকদের সঙ্গে উঠান বৈঠক, সমাবেশ ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কৃষকরা যাতে পেঁয়াজের ভালো ফলন পান সেই লক্ষ্যে সার, সেচসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে সার, কীটনাশক ও সহজ শর্তে ঋণসহ প্রান্তিক কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে কৃষকরা বলছেন, কৃষি বিভাগ থেকে পেঁয়াজ চাষ প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় উৎপাদিত পেঁয়াজ যদি সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কেনে তাহলে পেঁয়াজ চাষ আরও বাড়বে। রাজশাহীর পবা উপজেলার মথুরা গ্রামের কৃষক নূরুল আমিন বলেন, প্রতিবছর পেঁয়াজের চাষ করি। গত বছর এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছিলাম। কিন্তু ভরা মৌসুমে আমরা তেমন নায্য দাম পাইনি। এবছর কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে আরও দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করবো। বর্তমানে পেঁয়াজের দাম ভালো আছে। বীজ হিসেবে পেঁয়াজ বিক্রি করলে ভালো দাম পাওয়া যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামছুল হক বলেন, আগামী মৌসুমে জেলায় পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে পেঁয়াজ লাগানোর জন্য উঠান বৈঠক ও বিভিন্ন সমাবেশের মাধ্যমে তাদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কৃষকরা যাতে পেঁয়াজের ভালো ফলন পান সেজন্য সার, সেচ ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান বাজারে পেঁয়াজের প্রচুর চাহিদা ও ভালো দাম থাকায় কৃষকরাও ধান, গম, ভুট্টা ও শীতকালীন সবজির পর পেঁয়াজ চাষেই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে ধারণা করছেন রাজশাহী কৃষি বিভাগের ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ