পেঁয়াজ চাষ বাড়ছে, দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে তো!

পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হলেই দাম লাফিয়ে লাফিয়ে আকাশ ছোঁয়। কয়েক বছর ধরে এমনটাই দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি বিভাগ। রাজশাহীতে এ মৌসুমে পেঁয়াজ চাষের যে লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে তা পূরণ হলে উৎপাদিত পেঁয়াজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলায় বিক্রি করা যাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

পেঁয়াজের চাষ বাড়াতে দফায় দফায় চাষিদের সাথে উঠান বৈঠক, সমাবেশ ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ভালো ফলনের জন্য সার, সেচ, কীটনাশক ও সহজ শর্তে ঋণসহ প্রান্তিক চাষিদের সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেয়া হচ্ছে। এতে চাষিদের উৎসাহ বাড়লেও তারা বাজার নিয়ে চিন্তিত। সরকার সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে কিনলে পেঁয়াজ চাষ আরও বাড়বে বলেই তাদের ধারণা।

এ থেকে পরিষ্কার যে, বাজারের কারসাজিতে চাষিরা হতাশ। প্রায় সময়েই চাষিরা বাজারে ন্যায্য দাম পায় না, অথচ ক্রেতাদের বেশি দামে কিনতে হয় কৃষিপণ্য। এবারও পেঁয়াজের যথেষ্ট মজুদ থাকা সত্ত্বেও ভারত থেকে রপ্তানি বন্ধের খবরেই যেভাবে দাম বেড়ে যায় তা স্বাভাবিক মনে করার কারণ নেই। একই কথা বলা যায় আলুর ক্ষেত্রেও। আলু উৎপাদন দেশের চাহিদার তুলনায় বেশি। গত মৌসুমে প্রায় ১ দশমিক ৯ কোটি মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে, যেখানে দেশের মোট চাহিদা প্রায় ৭৭ দশমিক ৯ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ প্রায় ৩১ দশমিক ৯১ লাখ মেট্রিক টন আলু উদ্বৃত্ত। তারপরও এখন বাজারে আলুর দাম অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে কেজি প্রতি ৫০-৬০ টাকা হয়েছে।

তাই উৎপাদন বাড়লেই যে বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে এর নিশ্চয়তা নেই। এ অবস্থায় পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে চাষিদের উদ্বুদ্ধ ও সহায়তা করার পাশাপাশি বাজার নিয়ন্ত্রণেরও উদ্যোগ নেয়া জরুরি। নইলে উৎপাদন বাড়লেও চাষিরা বঞ্চিত হবে, ক্রেতাদের পকেট কাটবে অসৎ ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা। সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে, জোর দিয়ে বলা কঠিনই।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ