পেঁয়াজের মৌসুমে আমদানি বন্ধ চায় কৃষি মন্ত্রণালয়

সোনালী ডেস্ক: পেঁয়াজের মৌসুমে আমদানি বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক। গত মন্ত্রিসভার বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
এর আগে বাংলাদেশ সফররত সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়ার অ্যাসিট্যান্ট ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর) ক্রিস্টোফার উইলসন ও বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত। পাঁচ মাস পর গত ২৬ ফেব্রæয়ারি পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে তারা। কৃষিমন্ত্রী বলেন, গত মন্ত্রিসভায় পেঁয়াজ ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। সেখানে বাণিজ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছিলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় কী করছে? আমরা বলেছি, আমরা চাষিদের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া পেয়েছি। আশা করি অসুবিধা হবে না। তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর সামনে রিকোয়েস্ট করেছি, যখন পেঁয়াজের চাষ শুরু হবে তখন যেন আমদানি বন্ধ করা হয়। ওই সময়ে ভারতের পেঁয়াজ এসে যেন বাজার ভাসিয়ে দিয়ে না যায়। যাতে আমাদের চাষিরা ভালো দাম পায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে যথেষ্ট সজাগ, তারা সতর্ক আছে। ভর মৌসুমে পেঁয়াজ আমদামি বন্ধের দাবি জানানোর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কী বলেছিলেন তা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তিনি বলেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সবাই মিলে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। খুব সতর্ক থাকতে বলেছেন। আমরা অবশ্যই চাষিদের স্বার্থ দেখবো।
মন্ত্রী বলেন, গত মঙ্গলবার ফরিদপুরে শিলা বৃষ্টি হয়েছে। ফাল্গুন মাসে শিলা বৃষ্টি এটা কী চিন্তা করা যায়। সকাল থেকে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। পেঁয়াজের ভালই ক্ষতি হয়েছে। পাতা নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, তারপরও আমরা আশা করছি এ বছর ভালোই পেঁয়াজ হবে। আমরা খুবই আশাবাদী। আমরা যে পেঁয়াজের জাত উদ্ভাবন করেছি সেটা মাঠ পর্যায়ে চাষাবাদ হলে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশে পেঁয়াজের সমস্যা থাকবে না। নতুন জাতের পেঁয়াজে উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ না হলেও কাছাকাছি হবে। আগে প্রতি হেক্টরে ১০/১১ টন হতো, এখন সেটা হবে ১৮/১৯ টন। চলতি মাসের শেষে ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ উঠানো শুরু হবে বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী।

শর্টলিংকঃ