পুরোহিত হত্যা মামলায় চার জঙ্গির মৃত্যুদÐ

স্টাফ রিপোর্টার: পঞ্চগড়ের সোনাপাতা এলাকার শ্রী শ্রী সন্ত গৌড়ীয় মঠের অধ্যক্ষ ও প্রধান পুরোহিত মহারাজ যজ্ঞেশ্বর হত্যা মামলায় চার জেএমবি সদস্যকে মৃত্যুদÐে দÐিত করেছেন আদালত।
গতকাল রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজশাহীর দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক অনুপ কুমার দ.বি. ৩০২/৩৪ ধারায় এ দÐ প্রদান করেন। ফাঁসির দÐপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবি’র শীর্ষ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজিব ওরফে আন্ধি, জেএমবি সদস্য রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধন, আলমগীর হোসেন ও রমজান আলী। এর মধ্যে রাজিবুল ইসলাম বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদÐসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত।
এছাড়াও রায়ে তাদের চারজনকে দঃবিঃ ৩২৬/১০৯ ধারার অপরাধের দায়ে ৫ বছর সশ্রম কারাদÐ ৫ হাজার টাকা জরিমানা অর্থ অনাদায়ে ১ বছর এবং দ.বি. ৩০৭/১০৯ ধারার অপরাধে ১০ বছর সশ্রম কারাদÐ ৫ হাজার টাকা জরিমানার অর্থ অনাদায়ে ১ বছর সশ্রম কারাদÐ দেয়া হয়েছে। একই মামলার আসামি হারেজ আলী, আলহাজ খলিলুর রহমান ও রানার (পলাতক) বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রামাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
একই ঘটনায় নিহত পুরোহিতের সেবককে গুলি ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়। এতে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের পৃথক দুটি মামলায় আলাদা রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
অস্ত্র আইনের অপর মামলায় জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজিব ওরফে আন্ধি, জেএমবি সদস্য রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধন, আলমগীর হোসেন, রমজান আলী ও হারেজ আলীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদÐ প্রদান করা হয়েছে। বিস্ফোরক মামলার রায়ে এই পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদÐ প্রদান করা হয়েছে। এই মামলা দুটির অপর দুই আসামি রানা (পলাতক) এবং আলহাজ খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রæয়ারি ভোরে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা সদরের চীন-মৈত্রী সেতু সংলগ্ন সোনাপাতা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জেএমবি’র অস্ত্রধারী সদস্যরা শ্রী শ্রী সন্ত গৌড়ীয় মঠের অধ্যক্ষ মহারাজ যগেশ্বর রায়কে (৫০) গলা কেটে হত্যা করে। ওই সময় গুলিবিদ্ধ হন ওই মঠের আরেক সেবক। এ ঘটনায় ১০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বড় ভাই রবীন্দ্রনাথ রায়। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে আরও দুটি মামলা দায়ের করে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ। পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের জন্য রাজশাহীর দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ট্রাইব্যুনালে আসার পর এ মামলায় মোট ৩৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। পরে আদালতে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন।
এই মামলার অভিযুক্ত আসামি নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির শীর্ষ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজিব গান্ধী, জেএমবি সদস্য আলমগীর হোসেন ও রমজান আলী কারাগারে বন্দি ছিলেন। এছাড়া হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ১০ আসামির মধ্যে চারজন বিভিন্ন সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু। আর আসামিপক্ষে ছিলেন- অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা।

শর্টলিংকঃ