পুনর্নির্ধারিত দামে বাজারে আলু বেচাকেনা নিশ্চিত করুন

বাজারে আলুর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সরকার আলুর দাম নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু তা কার্যকর না হওয়ায় প্রায় ১৫ দিনের মাথায় পুনরায় নির্ধারিত হলো আলুর দাম। এখন থেকে খুচরা বাজারে প্রতিকেজি আলু ৩৫ টাকা দরে বিক্রি করতে হবে। গত মঙ্গলবার আলুচাষি, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা, হিমাগার মালিক প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কর্মকর্তাদের এক জরুরি বৈঠকে আলুর দাম পুনর্নির্ধারিত হয়।

এর আগে ৭ অক্টোবর কেজিপ্রতি আলুর দাম খুচরায় ৩০ টাকা, হিমাগার পর্যায়ে ২৩ টাকা ও পাইকারীতে ২৫ টাকা নির্ধারিত হলেও তা কার্যকর করা যায়নি। তদারকি, অভিযান ও জরিমানা চালিয়েও কাজ না হওয়ায় সরকারকে নতুন করে আলুর দাম নির্ধারণ করতে হয়েছে। এর ফলে হিমাগার পর্যায়ে প্রতিকেজি আলু ৪ টাকা এবং পাইকারী ও খুচরা পর্যায়ে ৫ টাকা বেড়েছে। এর কারণ হিসেবে কৃষিমন্ত্রী বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন দাম নির্ধারণের কথা বলেছেন, যাতে করে ক্রেতা ও বিক্রেতা দুই পক্ষই লাভবান হবে।

এদিকে সরকার নির্ধারিত দামে আলুর কেনাবেচা নিশ্চিত করতে উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসকরাও উদ্যোগী হয়েছেন। রাজশাহীতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে পুলিশের কর্মকর্তা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, কৃষি সম্প্রসারণ ও টিসিবি কর্মকর্তাসহ হিমাগার সমিতি এবং আলু ব্যবসায়ীদের সভায় আলুর দাম কমাতে এক সপ্তাহ সময় বেধে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। রাজশাহীতে বীজসহ এখনও প্রায় ১ লক্ষ মেট্রিক টনের মতো আলুর মজুদ থাকার পরও দাম এতো বৃদ্ধির যৌক্তিক কারণ খুঁজে পায়নি প্রশাসন। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আলুর দাম কমে না আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়ে দেয়া হয়েছে ওই সভায়। এর আগে কৃষিমন্ত্রী মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের কারণে আলুর দাম বৃদ্ধির কথা বলেছেন। তিনি বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগের বিষয় উল্লেখ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও প্রশাসনের চেষ্টার কথাও জানিয়েছিলেন।

এ ধরনের উদ্যোগ সত্ত্বেও আলুসহ নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হওয়ায় বাজার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। আগের মতো চাহিদা ও সরবরাহ সম্পর্ক স্বাভাবিক না থাকায় বাজার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে অতিরিক্ত উৎপাদন করেও কৃষিপণ্যের দাম নাগালের মধ্যে থাকে না। এ জন্য বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও জোরালো হয়ে উঠেছে। কৃষিপণ্য বিপণন কার্যক্রম উপজেলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ ও লোকবল বৃদ্ধি করা জরুরি হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া উৎপাদন বৃদ্ধি সত্ত্বেও পণ্যের সরবরাহ ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে না, এটা দেখাই যাচ্ছে।
বাজারে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের মনিটরিং সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষিপণ্য সংরক্ষণে হিমাগার ও গুদাম সঙ্কট দূর করাও প্রয়োজন। খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে জনবল সঙ্কটে ভুগছে। এর ফলে খাদ্য বিতরণ ও সংগ্রহ, বাজার মনিটরিংসহ সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে। যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাবেই নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। একমাত্র তাহলেই সরকার নির্ধারিত দামে আলুসহ নিত্যপণ্য বেচাকেনা নিশ্চিত হতে পারে।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ