পুঠিয়া-আড়ানী সড়কে সিএনজি চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

পুঠিয়া প্রতিনিধি: পুঠিয়া থেকে আড়ানী পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কটি অত্যান্ত গুর্বত্বপূর্ণ সড়ক। লালপুর, বাগাতিপাড়া ও বাঘা এই তিনটি উপজেলার শতশত মানুষ রোজ এই সড়ক ব্যবহার করে পুঠিয়া হয়ে রাজশাহী শহরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করেন। এই ১০ কিলোমিটার সড়কে নেই কোন যাত্রীবাহী বাস। দ্র্বত যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন সিএনজি। স’ানীয় কাউন্সিলরের ভাতিজার নির্দেশে সেটিও বন্ধ হয়ে আছে গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে। ফলে পুঠিয়া থেকে কোন সিএনজি আড়ানী যাচ্ছেনা আবার আড়ানী থেকেও কোন সিএনজি পুঠিয়ায় আসছে না। এতে যাত্রীদের যেমনি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তেমনি উপার্জনের পথ বন্ধ থাকায় অসহায় জীবন যাপন করছে কর্মহীন ৫০ টি সিএনজি চালকের পরিবার।
সংশিৱষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ মার্চ পুঠিয়ার সিএনজি ড্রাইভার তুহিন শেখকে আড়ানী পৌরসভার কাউন্সিলর জিলৱুর রহমানের ভাতিজা পিপুল ও তার সহযোগীরা আড়ানী বাজারে ব্যাপক মারধর করে। আহত তুহিন শেখ জানান, আড়ানী রেললাইনের পাশে সিএনজিতে যাত্রী তোলা নিয়ে পিপুলের সাথে তার অনেকদিন আগে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে গত ৩ মার্চ তুহিন রামচন্দ্রপুর সিএনজি স্ট্যান্ডে গেলে পিপুল ও তার সহযোগী মিতুল এবং তুফানসহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জন যুবক তুহিনকে দোকান থেকে টেনে বের করে বাশের লাঠি দিয়ে ব্যাপক মারধর করে। সেইসাথে পুঠিয়া থেকে যাতে কোন সিএনজি আড়ানীতে না আসে এবং আড়ানী থেকেও যাতে কোন সিএনজি পুঠিয়ায় না যায় সে ব্যপারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তারপর থেকে কেও আর ভয়ে সিএনজি নিয়ে বের হচ্ছে না।
পুঠিয়া স্ট্যান্ডের সিএনজি চালক লালন বলেন, গাড়ির উপরেই সংসার চলে এমনকি ভাড়া মেরেই কিস্তির টাকা জোড়ার করতে হয়। অথচ কয়েকদিন ধরে রোডে গাড়ি চালাতে পারছি না। স্ট্যান্ডে মারামারি হওয়ার কথা শুনে বাড়ি থেকেও গাড়ি নিয়ে বের হতে নিষেধ করছে পরিবার। কিন’ গাড়ি নিয়ে বের না হলে অন্য কোন উপায়ও তো নেই।
পুঠিয়া সিএনজি স্ট্যান্ড মালিক সমিতির সভাপতি এমদাদুল হক জানান, কাউন্সিলরের ভাতিজা পিপুল ও তার সহযোগীরা প্রতিদিন রামচন্দ্রপুর সিএনজি স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করে অথচ তারা সিএনজির চালক বা মালিক কিছুই না। সিএনজি চালক তুহিনকে মারার পর তারা আড়ানী পৌরসভার মেয়রের কাছে গিয়েছেন, কিন’ তিনিও কোন সমাধান দিতে পারেননি। এদিকে ঘটনার পর থেকে ভয়ে দুই স্ট্যান্ডের ৫০ জন সিএনজি চালক বেকার বসে আছেন। তুহিনকে মারার দায়ে পিপুলের বির্বদ্ধে চারঘাট থানায় একটি অভিযোগও করা হয়েছে কিন’ এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস’া নেয়া হয়নি বলেও জানান তিনি। তারা এ সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের হস্তৰেপ কামনা করেছেন।
আড়ানী পৌরসভার মেয়র মুক্তার হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে ভাতিজার চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে আড়ানী পৌরসভার কাউন্সিলর জিলৱুর রহমান বলেন, পিপুল কাউকে মারধর করেনি চাঁদাবাজিও করেনা। তার বির্বদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘরে বসে থেকে ওই রকম অভিযোগ অনেক করা যায়। সিএনজি চলাচলে বাঁধা দেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ওই রাস্তায় সিএনজি চললেও আমাদের কিছু না, না চললেও আমাদের কিছু না।

শর্টলিংকঃ