পুকুর ভরাট বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন

কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তায় পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে নগরীতে একের পর এক পুকুর ভরাট চলছেই। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে রাজশাহী নগরী। নগরীতে জলাশয় ও পুকুর সংরক্ষণের দায়িত্বে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) ও পরিবেশ অধিদপ্তর থাকলেও কোন নজর নেই তাদের। এদিকে ১৯টি পুকুর সংরক্ষণের দায়িত্ব থাকলেও সেদিকে নজর নেই রাসিকের।

গতকাল দৈনিক সোনালী সংবাদে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নগরীর কাজিহাটা এলাকায় রয়েছে একটি পুকুর। এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এ পুকুরের পানি ব্যবহার করেন। প্রতিদিন হাত-মুখ ধোয়া, কাপড় পরিষ্কার করা ও গোসলসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে পুকুরের পানি ব্যবহার হয়ে আসছে। পুকুরটি থাকার ফলে সেখানকার পরিবেশও অনেকটা স্বস্তিদায়ক। এ পুকুরটি ভরাট হয়ে গেলে মানুষ অসুবিধার মধ্যে পড়বেন। তাই পুকুরটি ভরাট না করে টিকিয়ে রাখা অতি জরুরি বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

কিন্তু রাতের আঁধারে পুকুরটিতে এখন ভরাটের কাজ চলছে অতি গোপনে। এ সম্পর্কে খোঁজই রাখেন না আরডিএ এবং রাসিক। আরডিএর সূত্র অনুযায়ী রাসিকের সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে নগরীর ১৯টি পুকুর। তার মধ্যে এই পুকুরটিও রয়েছে। অথচ পুকুরটি ভরাট হলেও রাসিক কর্তৃপক্ষ তা জানেন না। পরিবেশ আইনে জলাশয় ও পুকুর ভরাট নিষিদ্ধ থাকলেও এ পুকুরটিকে রক্ষা করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর। এরই মধ্যে পুকুরটি ভরাটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নগরীর রাজপাড়া থানা, রাসিক ও জনপ্রতিনিধিদের পত্র দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এভাবে পুকুর ও জলাশয় ভরাট অব্যাহত থাকলে নগরবাসী পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন, তাতে কোন সন্দেহ নেই। এ অবস্থায় নগরীর পুকুর ও জলাধার সংরক্ষণ ও নজরদারিতে রাখা জরুরি বলে আমরা মনে করি। আমরা আশা করবো, বর্তমানে নগরীরর যেসব পুকুর ও জলাধার ভরাট কাজ চলছে তা বন্ধ করতে সংশ্লিষ্টরা কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ