পিরিয়ডে ব্লিডিং কম? জেনে নিন কারণ ও প্রতিকার

অনলাইন ডেস্ক: পিরিয়ড সংক্রান্ত নানা রকম ঝামেলা, চিন্তায় সকলেই জর্জরিত। এই একটা বিষয়ে প্রায় সব মেয়েই একসঙ্গে গলা মেলান। মাসের ওই কয়েকটা দিন সকলকেই বিস্তর হ্যাপা পোহাতে হয়। কারোর ফ্লো বেশি, কারোর কম এছাড়াও বর্তমানের জীবনযাত্রার কারণে নানারকম স্ট্রেস তো থাকেই। প্রতি ২১-৩৫ দিনের সাইকেলেই মোটামুটি সকলের পিরিয়ড হয়। তবে কম ফ্লো হলে বা লাইট পিরিয়ডসের বেশ কিছু লক্ষণ থাকে।

১. দুদিনের বেশি পিরিয়ডস থাকে না।
২. বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্পটিং হয়।
৩. কখনও এরকম হয় যে ২ মাস পিরিয়ডস হয় না।
৪. ২১ দিনের আগেও পিরিয়ডস হয়ে যেতে পারে।

কারণ হিসেবে যা যা উঠে আসছে-
১. বয়ঃসন্ধিকালে পিরিয়ডসের নানা সমস্যা দেখা যায়। এছাড়াও নানা বয়সে এখন বিভিন্ন হরমোনের তারতম্যের জন্যও পিরিয়ডসে তার প্রভাব পড়ে।

২. ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় কম হলে ব্লিডিং কম হয়। আবার বেশি হলেও সেক্ষেত্রে সমস্যা হয়। সঙ্গে আপনার খাদ্যাভ্যাসে যদি অতিরিক্ত ফাস্টফুড, চিকেন, মাটন, ডিম থাকে তাও পিরিয়ডসে প্রভাব ফেলে। এছাড়াও খাবারে বেশিক্ষণ গ্যাপ দিলে, গ্যাস অম্বলের প্রবণতা থাকলেও সমস্যা হয়।

৩. কোনও কারণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে প্রথমদিকে স্পটিং হয়। যা অনেকেই পিরিয়ডস বলে ভুল করেন। যার ফলে অনেকে অন্তঃসত্ত্বা হলে বুঝতেও পারেন না। সন্দেহ হলে বা কোনও কারণে পিরিয়ডস মিস হলে অবশ্যই প্রেগন্যান্সি টেস্ট করান।

৪. ব্রেস্ট ফিডিং করালেও পিরিয়ডস হতে সময় লাগে। কারণ সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর ওভ্যালুশন শুরু হতে দেরি হয়।

৫. যাঁরা নিয়মিত পিল কান তাঁদের ক্ষেত্রেও পিরিয়ডসে এই সমস্যা দেখা যায়। কারণ এই পিল ওভ্যালুশনে বাধা দেয়।

৬. স্ট্রেসও নানা প্রভাব ফেলে। কারণ আপনি খুব স্ট্রেসড থাকলে হয় খুব বেশি ব্যথা হয় বা পিরিয়ডসের পরিমাণ কমে যায়। নানারকম শারীরিক অসুবিধে লেগেই থাকে।

৭. অতিরিক্ত পরিশ্রম করলেও পিরিয়ডসে তার প্রভাব পড়ে। কখনও খুব কম হয়, কখনও শারীরিক প্রভাব খুব বেশি পড়ে। যারা নাচ করেন, জিম করেন, অতিরিক্ত ওজন তোলেন তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা খুব বেশি হয়।

৮. প্রতিদিন সুষম আহর করলে অনেকরকম সমস্যা থেকে দূরে থাকা যায়। ফল, শাকসব্জি অবশ্যই খাদ্য তালিকায় রাখবেন।

৯. যাঁদের পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম রয়েছে তাঁদের এই সমস্যা খুব বেশি। কারণ তাঁদের ওবেসিটটির মতো সমস্যা থাকে, হরমোনাল সমস্যা থাকে সেখান থেকেই যাবতীয় সমস্যা হয়। এই সমস্যার জন্য যে পিল খেতে হয় তা পিরিয়ডসে বাধা দেয়। এছাড়াও যাদের পিসিওএস থাকে তাদের টাইপ টু ডায়াবিটিস দেখা যায়।

১০. পলিসিস্টিক ওভারি ছাড়াও অন্যান্য কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলেও লাইট পিরিয়ড হতে পারে। তাই দুমাস এরকম হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

চিকিৎসকের পরামর্শ কখন নেবেন

১. তিনমাস পিরিয়ডস মিস হলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যান বা ফ্যামিলি প্ল্যানিং থাকলে অবশ্যই যান।

২. পিরিয়ড যদি খুবই অনিয়মিত হয়।

৩. দুমাস ছাড়া অতিরিক্ত ব্লিডিং হলে।

৪. পিরিয়ডসের সময় অতিরিক্ত ব্যথা হলে।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ