পিপিপি হোক গোল্ডেন হ্যান্ডশেকে দিশেহারা পাট শ্রমিকদের আশার আলো

  • 18
    Shares

দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাট শিল্পের ২৪ হাজার ৮৮৬ জন স্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারীকে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের পেছনে অব্যাহত লোকসানের কথাই জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী। শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দিয়ে এই খাতকে এগিয়ে নিতে সরকারের চিন্তার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে ১ আগস্ট পর্যন্ত কারখানা চলবে এবং গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের কারণে শ্রমিকরা আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে এককালীন টাকা পাবেন। এজন্য সরকারকে বকেয়া পাওনা হিসেবে চার হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে।

তবে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের পর আগামী ছয় মাসের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে পাটকলগুলোকে আধুনিকায়ন করে উৎপাদনমুখী করার কথা বলা হয়েছে। তখন এসব শ্রমিক সেখানে চাকরি করার সুযোগ পাবেন বলা হলেও কবে নাগাদ তা হবে সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি মন্ত্রী। অব্যাহত লোকসানের কারণে ২০১৩ থেকে এ পর্যন্ত অবসরে যাওয়া আট হাজার ৯৫৪ জন পাটকল শ্রমিককে অবসর ভাতা দেয়া সম্ভব না হলেও বর্তমানে কর্মরত শ্রমিকদের সবধরনের প্রাপ্য অর্থাদি এক সাথে শতভাগ পরিশোধের কথা বলেছেন তিনি।

সরকারের এমন সিদ্ধান্তে পাটকল শ্রমিকদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। খুলনা অঞ্চলের শ্রমিক-কর্মচারীরা বিক্ষোভ করেছেন। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকেও রাষ্টায়ত্ত পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্তে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি ওয়াদায় কয়েকটি বন্ধ পাটকল চালু করা হলেও সে প্রতিশ্রুতি এগিয়ে নিতে ব্যর্থতার পেছনে ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে পাটকল পরিচালনা কেন্দ্র বিজেএমসির মাথাভারী প্রশাসন, দুর্নীতি-অনিয়মকেই দায়ি করা হয়েছে। করোনা মহামারির সময়ে একদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করা অন্যদিকে ব্যক্তিমালিকানা খাতে প্রণোদনা দেয়ার পাশাপাশি শ্রমিক ছাঁটাই কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানিয়েছেন ওয়ার্কার্স পার্টি নেতৃবৃন্দ।

বাংলাদেশের অভ্যুদয়, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পাট চাষ, পাট শিল্প ও পাট পণ্যের জড়িত থাকা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। অর্ধকোটি পাট চাষি, পাট শ্রমিক, পাট ব্যবসায়ীসহ প্রায় ৩ কোটি মানুষ জড়িত যে শিল্পের সাথে তাকে রক্ষা করতে সংষ্কার ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে পাটকলগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা যে সম্ভব সেটা এখন মোটেই অজানা নয়।

গত বছর জাতীয় পাট দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীও একই কথা বলেছেন। ‘পাট এমন একটি পণ্য, যাহার কিছুই ফেলনা নহে। তাহলে কেন পাটে এত লোকসান হবে’? এভাবে প্রধানমন্ত্রীও লোকসানের বিপরীতে পাট শিল্পকে লাভজনক করার তাগিদ দিয়েছেন। কেননা আজকের বিশ্বে পাটের মতো পরিবেশবান্ধব তন্তুর বিকল্প নেই। তাই পাটের বিশ্বব্যাপী চাহিদা প্রমাণ হয় দেশের বেসরকারি পাটকলগুলোর লাভজনক অবস্থা থেকে।

এ অবস্থায় পিপিপি’র মাধ্যমে পাট শিল্পকে পুনর্জীবন দানের মাধ্যমে করোনাকালে দিশেহারা পাটকল শ্রমিকদের সামনে আশার আলো তুলে ধরা হবে, এটাই সবার কাম্য!

 

শর্টলিংকঃ