পাবনায় উন্মুক্ত স্থানে রেখে বিক্রি হচ্ছে কয়লা

  • 25
    Shares

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার বেড়া উপজেলার নগরবাড়ি নৌবন্দরে স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে দিয়ে শতশত শ্রমিক কার্গো জাহাজ থেকে কয়লা লোড আনলোডের কাজ করছেন। অন্যদিকে নগরবাড়ি নৌবন্দর এলাকায় উন্মুক্ত স্থানে স্তপ করে কয়লা রাখায় বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে পরিবেশ। স্বাস্থ্য ঝুকি নিয়ে বসবাস করছে স্থানীয় বাসিন্দা।

কয়লা ব্যবসায়ীরা উন্মুক্ত ভাবে কয়লা সংরক্ষণ, বিক্রয় এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে জাহাজ থেকে মাথায় করে শ্রমিকেরা কয়লা লোড আনলোডের কাজ করলেও উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নিরবতায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

নগববাড়ী নৌবন্দর এলাকা ঘুরে ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সোহেল ট্রেডার্স, আমান ট্রেডার্স, নওয়াপাড়া ট্রেডার্সসহ সাতটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান কার্গো জাহাজ যোগে ইন্দোনেশিয়া থেকে নগরবাড়ী নৌবন্দরে কয়লা আমদানী করছে। নগরবাড়ি ঘাটে কার্গ জাহাজ থেকে শত শত শ্রমিক মাথায় করে কয়লা নামিয়ে উন্মুত্ত স্থানে স্তুপ করছে।

আবার সেখান থেকে প্রতি টন কয়লার ৬ হাজার টাকা ধরে ট্রাক যোগে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন ইট ভাটাতে ইট পোড়াতে এই কয়লা চলে যাচ্ছে। জাহাজ থেকে আনলোড কিংবা ট্রাকে লোড করার সময় কোন প্রকার কোন স্থাস্থ্য সুরাক্ষার ব্যবস্থা করা হয়না শ্রমিকদের ফলে কয়লার গুড়ো শ্বাসপ্রশ্বাসে মাধ্যমে ঢুকে পড়ছে ফুসফুসে। এতে ক্যান্সারসহ যক্ষা রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে এ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা।

কয়লা লোডআনলোডের সাথে জড়িত একাধিক শ্রমিকের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, পেটের তাগিদে বিপদ জেনেও তারা এই কাজ করছে। সারাদিন কয়লা টানার পর দিন শেষে দেখা যায় নাক মুখ থেকে কয়লার গুড়ো বের হয়। কয়লার প্রভাবেব দেখা দিয়েছে নানা শারীরিক সমস্যা। দিন শেষে ৪ থেকে ৫শ’ টাকা মজুরী পান এই কয়লা শ্রমিকেরা।

তারা আরো বলেন, কাজ করার সময়ে শরীরে অতিরিক্ত পানি ঝরে। ফলে মাস্ক নিয়ে কাজ করলে ঘেমে নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়।

এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জাহিদ হাসান সিদ্দিকীর মতে, স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে কয়লা বহনের কারনে শ^াসকষ্ট, ক্ষুধামন্দা, ফুসফুসের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্রগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্টের পাশাপাশি কাশি শুরু হয়ে থাকে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সেটা যক্ষার রূপ ধারন করে।

নগরবাড়ী ঘাট এলাকার কয়েকজন কৃষক জানান, কয়লার গুড়া ফসলি জমিতে পরে মাটি কালো হয়ে যাচ্ছে। এসব জমিতে আর কোন ফসলই ভালো হচ্ছে না। আর কিছুদিন গেলে এসব জমিতে ফসল আবাদের আশা ছেড়ে দিতে হবে।

বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশকর আলী জানান, কয়লার স্তর পড়ে জমিতে ফসল কম গেছে। মাটি ঠিকমত প্রাকৃতিক খাদ্য ও বাতাস থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান গ্রহণ করতে পারছে না। তিনি আরো বলেন, জাহাজ থেকে কয়লা আনলোড হবার পর নিদিষ্টস্থানে আবদ্ধ করে রেখে বিক্রি করলে সবার জন্যই উপকার। পরিবেশ অধিদপ্তরের সনদ নিয়ে নিয়ম অনুয়ায়ী সংরক্ষিত এলাকায় এ ব্যবসা করা দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এ ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানিয়ে আসছেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণেই প্রশাসনের নাগের ডগার উপর এ ব্যবসা পরিচালনা হলেও তাদের ভ্রুক্ষেপ নেই।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানতে কয়েকজন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাদের সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তাদের পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন সনদপত্র আছে কি না জানতে চাইলে তারা এ বিষয়ে জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর পাবনার সহকারী পরিচালক নাজমুল হোসাইন বলেন, কয়লা আমদানী, রপ্তানী ও বিপনন এবং সংরক্ষণের জন্য যথাযথ নিয়ম মেনে করতে হবে। নগরবাড়ি নৌবন্দর পরিদর্শণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আনাম সিদ্দিকী বলেন, কয়লা ব্যবসায়ীরা উন্মুক্ত ভাবে কয়লা বিক্রি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা যদি এই প্রতিশ্রুতি না মানেন তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ