পানিতে ডুবে প্রতিদিন মারা যায় ৩২ শিশু

অনলাইন ডেস্ক: দেশে প্রতিদিন পানিতে ডুবে গড়ে ৩২টি শিশুর মৃত্যু হয় বলে উঠে এসেছে এক গবেষণায়। মারা যাওয়া শিশুদের বয়স এক থেকে চার বছর। এক বছরে এই দুর্ঘটনায় প্রায় ১২ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়।

বেসরকারি সংগঠন সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশের (সিআইপিআরবি) এক গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশের সাত উপজেলায়। গবেষণা চালিয়ে এ তথ্য পায়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই গবেষণা তথ্য তুলে ধরেন সিআইপিআরবির ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আমিনুর রহমান।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিসের আর্থিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়, সিআইপিআরবি এবং আইসিডিডিআরবির যৌথ উদ্যোগে দেশের সাতটি উপজেলা—রায়গঞ্জ, মনোহরদী, শেরপুর, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর ও দাউদকান্দিতে এই গবেষণা পরিচালিত হয়।

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুসারে, সারা বিশ্বে আঘাতজনিত কারণে শিশুমৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ পানিতে ডুবে মৃত্যু। এ কারণে প্রতিবছর তিন লাখ ৫৯ হাজার জন পানিতে ডুবে মারা যায়, যার মধ্যে ৯৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর মধ্যে ২০ শতাংশের বয়স ৫ বছরের কম। এই মৃত্যু রোধ করতে শিশুর প্রতি সার্বক্ষণিক নজরদারি বৃদ্ধি, ডে-কেয়ার সেন্টার, শিশুবেষ্টনী সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনে আমিনুর রহমান আমিনুর রহমান বলেন, ‘এখন মা যখন রান্না, কাপড় ধোয়া, পরিবারের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তখন এ দুর্ঘটনা ঘটে বেশি। সকাল থেকে দুপুর ১টার মধ্যে এ সময়ে বাড়ির পাশের পুকুর, খালে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। শিশুকে সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে রাখলে এ দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব।’

তিনি জানান, ডে কেয়ার সেন্টার করে সুফল পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে সরকার উদ্যোগ নিলে মৃত্যু হার কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি। এছাড়া এক্ষেত্রে সবার সচেতনতাও জরুরি।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ