পাট খাতের সঙ্কট কমছে না

এক সময়ের গর্বের পাট খাত এখন সঙ্কটে হাবুডুবু খাচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কাঁচাপাট রপ্তানি বেড়ে গেছে। এর মধ্যেই এবার উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে ঘাটতির কারণে পাটের দাম বেড়েছে। তারপরও হতাশা কাটছে না পাটচাষিদের। কাঁচা পাটের সঙ্কটে পড়েছেন বেসরকারি পাটকল মালিকরাও।

হাট-বাজারে প্রতিমণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২১শ থেকে ২২শ টাকায়। কিন্তু বেসরকারি পাটকল মালিকেদের পাট কিনতে হচ্ছে ২৫শ টাকা মণ দরে বা তারও বেশি দামে। তারপরও ভালো মানের পাট পাওয়া কঠিন। অন্যদিকে পাট কাটা শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় দাম ভালো পেলেও পাটচাষিরা আশানুরূপ লাভের মুখ দেখতে পারছেন না। আবার জাগ দেয়ার মত পানির অভাবে ভালোভাবে ধুতে না পারায় পাটের মান ভালো হচ্ছে না। এ সব সমস্যার সমাধান খুঁজছেন পাটচাষিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার গত বছরের তুলনায় পাটের উৎপাদন কমেছে ৫৬২ মেট্রিক টন। ঘন ঘন বৃষ্টি ও বন্যায় পাটখেত ডুবে যাওয়ায় অনেক স্থানেই অপুষ্ট পাট না কেটে পারেনি কৃষক। ফলে উৎপাদন ও মান দুটোই কমেছে। করোনার কারণে শ্রমিক সঙ্কটে ভালো পরিচর্যা হয়নি পাট গাছের। এতেও উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে উৎপাদন কমেছে অর্ধেকের মতো। পাশাপাশি রপ্তানি বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি পাটকলগুলোতে কাঁচা পাটের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পাটের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে ফায়দা লুটছে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। পাটচাষি, পাটকল শ্রমিক, মিল মালিক কেউই স্বস্তিতে নেই।

পাটখাতের এসব সমস্যার সমাধানে নজর দেয়া জরুরি। নইলে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের দশায় পড়তে পারে এক সময়ে সোনালী আঁশ হিসেবে পরিচিত এদেশের পাট। যদিও সে পরিচয় অনেকটাই হারিয়ে গেছে এর মধ্যেই। কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার ভরষা পাটখাতের সঙ্কট কি কাটবে না?

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ