পাখির বিষ্ঠা পরিষ্কারে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ!

  • 34
    Shares

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর কাটাখালী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে পাখির বিষ্ঠা পরিষ্কারের জন্য চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল। সোমবার সকাল থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।

সকাল ৮টার দিকে রাজশাহীর কাটাখালী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের ৩৩ কেভি সুইচ ইয়ার্ডে দেখা যায়, ভেতরে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকছে। গাড়ি ঢুকেই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পানি ছুড়তে শুরু করেছেন। আগুন নেভাতে যেভাবে পানি ছোড়েন, সেভাবেই। উৎসুক মানুষের মনে কৌতূহল, গ্রিডে কি আগুন লেগেছে? তা ছাড়া পানি নিয়ে ফায়ার সার্ভিস কেন।

কৌতূহল মেটাতে নর্দান পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, কাটাখালী ৩৩ কেভি ১৩২ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের ‘গ্যাং টি’-তে রাতের বেলায় হাজার হাজার শালিক পাখি থাকে। রাতের পর রাত গ্রিডের যন্ত্রাংশে জমে থাকে তাদের বিষ্ঠা। একটু বৃষ্টি হলেই তা চুইয়ে আরেক যন্ত্রাংশে পড়তে গেলেই আগুন জ্বলে ওঠে।

কোনো যন্ত্র বার্স্ট (বিস্ফোরিত) হয়, কোনোটা বিকল হয়। তখন সারা শহরের বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গভীর রাতে কফোঁটা বৃষ্টি পড়লেই বিদ্যুৎ বিভাগের লোকের ঘুম হারাম হয়ে যায়। তারা পাখি মারতেও পারেন না, তাড়ালেও যায় না। পাখি নিয়ে তারা পড়েছেন বিড়ম্বনায়।

নেসকোর একজন প্রকৌশলী জানিয়েছেন, এর আগে এয়ারগান, মরিচ পটকা, লিচু বাগানের পাখি তাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত টিন তাঁরা ব্যবহার করেছেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। আবার পাখিরা ফিরে আসে। কোনো ট্রান্সফরমার বার্স্ট হলে শব্দ হয়, তখন একটু ওড়াউড়ি করে। কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে আসে। দিনে দিনে এই শব্দাটাও তাদের পরিচিত হয়ে গেছে। তারা ভয় পায় না।

তাই বৃষ্টির মৌসুম শুরুর আগে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সোমবার রাজশাহী শহরের বিদ্যুৎ–সংযোগ চার ঘণ্টা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এ সময় ফায়ার সার্ভিসকে ডেকে পানি দিয়ে পাখির বিষ্ঠা ধুয়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও দুই মাস যেতে না যেতেই আবার একই অবস্থা হবে।
পাখিরা সকাল হলেই তাদের বিচরণ ক্ষেত্রে চলে যায়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে অন্য পাখিরা যেমন কোলায় ফেরে তেমনি কাটাখালীর শালিকেরা গ্রিডে ফেরে। সারা রাত তারা মলত্যাগ করে। একটু বৃষ্টি হলেই পাখির বিষ্ঠা গলে যায়। চুইয়ে চুইয়ে সার্কিট ব্রেকার, লাইন আইসোলেটর ও বাস আইসোলেটরে গিয়ে পড়তে থাকে। তখন ব্রেকারগুলো বার্স্ট হয়ে যায়, আইসোলেটর ক্র্যাক করে।

বিদ্যুৎ পরিমাপের যন্ত্র সিটি ট্রান্সফরমার ও পিটি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যায়। তখন পুরো বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। একটি সিটি ট্রান্সফরমারের অধীনে ৪০ থেকে ৫০ হাজার গ্রাহক থাকেন। একটি বিকল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই ট্রান্সফরমারের অধীনের সব গ্রাহকের বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দিন দিন এই পাখির সংখ্যা বাড়ছে। তারা ৩৩ কেভি সুইচ ইয়ার্ড থেকে এখন ১৩২ কোভি সুইচ ইয়ার্ডের দিকে যাওয়া শুরু করেছে। এই ইয়ার্ডে পাখিরা একইভাবে পায়খানা করা শুরু করলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গ্রাহকেরাও সমস্যায় পড়বেন। সোমবার রাজশাহী শহরের বিদ্যুৎ–সংযোগ চার ঘণ্টা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এ সময় ফায়ার সার্ভিসকে ডেকে পানি দিয়ে পাখির বিষ্ঠা ধুয়ে নেওয়া হয়েছে।

সকালে কাটাখালী গ্রিড উপকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে যেভাবে নিচ থেকে পাইপের মাধ্যমে ওপরে পানি নিক্ষেপ করেন, একইভাবে বিষ্ঠা ধুতেই পানি ছুড়ছেন। আর নেসকোর কর্মচারীরা গ্রিড উপকেন্দ্রের যন্ত্রাংশ ঘষে ঘষে পরিষ্কার করছেন। বিষ্টার গন্ধে ভেতরে দাঁড়ানোর উপায় নেই। তার ভেতরেই তাঁরা কাজ করছেন।

নেসকোর প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ বলেন, এই পাখির বিষ্ঠার কারণে বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই তাঁরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ফায়ার সার্ভিসকে দিয়ে বিষ্ঠা ধুয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করছেন। তিনি বলেন, এই পাখি নিয়ে তাঁরা চরম বিপাকে পড়েছেন। এ জন্য সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রাজশাহী শহরে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হয়েছে।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ