পাঁচ বছর পর আজ রাজশাহী নগর আ.লীগের সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘ ৫ বছর পর আজ রোববার রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ সম্মেলন ঘিরে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে নগর রাজনীতি। সম্মেলনে ভোট চাইছেন কাউন্সিলররা। ভোটের মাধ্যমেই তারা নগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নির্বাচন করতে চান। তবে ভোটের সম্ভাবনা নেই বলেই দলের উচ্চপর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দই ঘোষণা দিতে পারেন নতুন কমিটি।
এদিকে সম্মেলনে পদপ্রত্যাশীদের পোস্টার, ফেস্টুন আর ব্যানারে নগরীর সড়ক ও মোড়গুলো রঙিন হয়ে উঠেছে। নগরজুড়ে বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। সম্মেলনের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে আগামীকাল ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে। সকাল ১০ টায় শুরু হবে সম্মেলন।
সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন আওয়ামীলীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এমপি। বিশেষ অতিথি থাকবেন আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ও হুইপ আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন প্রমুখ। সভাপতিত্ব করবেন নগর আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এছাড়া দলের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে বেলা সাড়ে ৩ টায় জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে।
এদিকে, সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন গতকাল সম্মেলনস্থল পরিদর্শন করেন।
নগর আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকেই আবার এ পদে দেখতে চাইছেন নেতাকর্মীরা। তার সঙ্গে চাইছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারকে। সম্মেলন হলেও তারা এ পদে আবার থাকছেন এমন গুঞ্জন গতকাল দিনভর চাউর হয়েছে রাজনীতির মাঠে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, দলে যে অবদান এবং বর্তমানে দল যেমন সুসংগঠিত তাতে লিটন-ডাবলুর কোনো বিকল্প নেই।
নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আসতে এবার রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ বজলুর রহমান আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তবে আরডিএ চেয়ারম্যান হওয়ার পর দলে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। আর সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে আগ্রহী অন্তত ১৩ নেতার নাম জানা গেছে। তবে এদের বেশিরভাগই দীর্ঘ সময় ধরেই রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়।
নগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে ডাবলু সরকারের নেতৃত্বেই আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে। সাবেক তত্ত¡াবধায়ক সরকারের আমলে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হলে তখনও ডাবলু সরকার নেতাকর্মীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলেন। সেই জনপ্রিয়তায় কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে তিনি নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। চার বছর ৬ মাস নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও প্রভাব খাটিয়ে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের বেসরকারি সদস্য হননি। বিগত সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশায় সারাদেশের সাড়ে চার হাজার নেতা মনোনয়নপত্র তুললেও ডাবলু সরকার তোলেননি। তিনি কেবল দলকেই সময় দিতে চেয়েছেন। প্রচুর সময়ও দিয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মী অসুস্থ হলে ছুটে গেছেন হাসপাতালে, বাড়িতে। কেউ মারা গেলে অংশ নিয়েছেন জানাযায়, সৎকারে। সবাইকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছেন। তাই সম্পাদক পদে তারা আবার ডাবলুকেই চান।
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০১৪ সালের ২৫ অক্টোবর। ওই সম্মেলনে খায়রুজ্জামান লিটন বিনাপ্রতিদ্ব›িদ্বতায় সভাপতি নির্বাচিত হন। আর ডাবলু সরকার সাধারণ সম্পাদক হন কাউন্সিলরদের ভোটে। এবারও ভোট হলে ডাবলু নির্বাচিত হবেন বলে আশা করছেন তার অনুসারিরা।

শর্টলিংকঃ