পর্যাপ্ত টাকা রাখার পাশাপাশি সব এটিএম বুথ জীবাণুমুক্ত রাখার নির্দেশ

সোনালী ডেস্ক: দেশের সব এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার পাশাপাশি বুথগুলোকে জীবাণুমুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি বুথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি ব্যাংকের পয়েন্ট অব সেলস, ইন্টারনেট, অ্যাপ ও ইউএসএসডি ভিত্তিক সব লেনদেন নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো প্রজ্ঞাপনে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি সম্পর্কে গ্রাহকদের সচেতন করতে উদ্যোগ নেয়ার কথাও বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক উল্লেখ করেছে, উদ্ভূত যে কোনও পরিস্থিতিতে নিরাপদ ব্যাংকিং ও পরিশোধ সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ব্যাংক আইসিটিসহ ক্রিটিক্যাল সাভির্স ম্যানেজমেন্টের কি পারসন চিহ্নিত করে একটি তালিকা তৈরি করবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে বিজনেস কনটিনিউটি প্ল্যান (বিসিপি) প্রণয়ন করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বলেছে, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ও ওষুধ ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনও মাশুল কাটা যাবে না। মাশুল ছাড়াই দৈনিক সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ও প্রতি মাসে এক লাখ টাকার জরুরি পণ্য কেনা যাবে। তবে এর বেশি কেনাকাটায় মাশুল দিতে হবে।
এছাড়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে জরুরি কেনাকাটাতে কোনও মাশুল কাটতে পারবে না ব্যাংকগুলো। পাশাপাশি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি হিসাবে প্রতি মাসের লেনদেন সীমা ৭৫ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেনে দিনে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা ক্যাশ আউট সম্পূর্ণ চার্জবিহীন রাখতে হবে। সকল তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রোভাইডার এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের গত বৃহস্পতিবার এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংকের প্রতিটি শাখার ক্যাশ কাউন্টার, এটিএম এবং এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট পয়েন্ট ও মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএসএফ) এজেন্ট পয়েন্টগুলোতে নগদ অর্থ, ই-মানি সরবরাহের সেবা নিরবিচ্ছিন্নভাবে নিশ্চিত করতে হবে। লেনদেনের স্থান যেমন- ব্যাংক, এটিএম বুথ, পিওএস এবং এজেন্ট পয়েন্টগুলো নিয়মিতভাবে জীবাণুমুক্ত ও সেখানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ও ওষুধ কেনোর ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেনে (যে কোনো চ্যানেলে) কোনো চার্জ কাটা যাবে না বলে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন সুবিধাযুক্ত কার্ডের এনএফসি লেনদেন সীমা তিন হাজার টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকায় উন্নীত করা হল। এ মাধ্যমেও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ও ওষুধ বিক্রয়কারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেইট এবং ইন্টারজার্চ রিইম্বুর্সমেন্ট ফি প্রযোজ্য হবে না।
এটিএম, পিওএস, ইন্টারনেট, অ্যাপ ও ইউএসএসডিভিত্তিক লেনদেন নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে নির্দেশনা দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ব্যাংকিং ও পরিশোধ সেবা প্রদানকারী ও গ্রহণকারী সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ ব্যাংকিং ও পরিশোধ সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত এসব অনুসরণ করতে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

শর্টলিংকঃ