পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে আতঙ্কের কিছু নেই /খাদ্যমন্ত্রী

সোনালী ডেস্ক: করোনার কারণে খাদ্য সংকট হবে না জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত আছে, ভোক্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সুতরাং অনেক খাদ্য কিনে মজুদ করারও প্রয়োজন নেই। কোনো ব্যবসায়ী, মিলার করোনাকে পুঁজি করে যদি বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তাহলে সরকার চুপচাপ বসে থাকবে না বলেও সাবধান করে দেন তিনি।
গতকাল বুধবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চলমান বাজার মনিটরিং বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এসব কথা জানান। তিনি বলেছেন, সরকারি গুদামে বর্তমানে সোয়া ১৪ লাখ চাল মজুদ আছে। সুতরাং চাল-গম নিয়ে ভোক্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে, বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বই আক্রান্ত হয়েছে। চাল ও গম নিয়ে ভোক্তারা যেন আতঙ্কিত না হয়। কোনো ব্যবসায়ী বা মিলার যদি এটাকে পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে তবে সরকার ও খাদ্য মন্ত্রণালয় কোনো ক্রমেই চুপচাপ বসে থাকবে না।
খাদ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সরকারি গুদামে ১৭ সাখ ৩৯ হাজার ৪৯৫ মেট্রিক টন খাদ্যশষ্য মজুদ আছে। এর মধ্যে তিন লাখ ১৯ হাজার টন গম। এর বাইরে ‘পাইপলাইনে’ রয়েছে আরও দুই লাখ মেট্রিকটন গম। গতবার এই সময়ে ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ৫২৩ মেট্রিক টন খাদ্যশষ্য মজুদ ছিল। ওএমএস-এর চাল বিতরণের জন্য ইতোমধ্যে ডিলারদের চিঠি দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আটা বিক্রি চলছে এবং চলবে, ভোক্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের চিঠি দেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা বাড়তি পুঁজি করতে চাইলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যে ব্যবস্থা নেব তাতে আপনারা (গণমাধ্যমকর্মী) আমাদের বাহবাই দেবেন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকার স্কুল বন্ধের পাশাপাশি জনসমাগম এড়িয়ে চলতে বলার পর অনেকে ভবিষ্যতের সঙ্কটের শঙ্কায় খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বেশি বেশি কিনে বাসায় মজুদ করছেন এবং তার ফলে চালের দাম চড়তে শুরু করেছে বলে খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে। তবে এই মুহূর্তে ভোক্তারা একসাথে কতটুকু খাদ্যশস্য কিনতে পারবেন তা নির্ধারণ করে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সিলিং নির্ধারণ করে দিতে চাই না। কারণ তা করলে মানুষ মনে করবে, না জানি কি আছে! (বিদেশ থেকে) মানুষ আসা বন্ধ হয়েছে, তবে পেঁয়াজ আসছে, প্রয়োজনে চাল ঢুকিয়ে দেব, অতো চিন্তার কোনো কারণ নেই। একমাস ১০ দিন পর ধান পাবো। ২৫ দিন পর হাওরের ধান পাবো, এত চিন্তার কোনো কারণ নেই।
সরকারি মজুদের থেকে আট থেকে ১০ গুণ বেশি ধান-চালের মজুদ বেসরকারি পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত ব্যবসায়ী ও মিলারদের উচিত মানবতার প্রশ্নে আল্লাহকে হাজির-নাজির রেখে মানুষের আরও সেবা দেওয়া। সেখানে কেউ যদি পুঁজি করে বাড়তি সুবিধার চেষ্টা করে, রোজা সামনে রেখে কোনো অবৈধ ব্যবসা যাতে না করতে পারে সে বিষয়ে সচেষ্ট আছি। ভোক্তাদের আমি বলতে চাই, উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কোনোক্রমেই কোনো ব্যবসায়ী বা মিলার যদি উদ্বৃত্ত ব্যবসার চেষ্টা চালায় কোনোক্রমেই ছাড় দেওয়া যাবে না। কেউ যদি মজুদ রেখে কষ্টে ফেলার চেষ্টা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যবসায়ীদের কারণে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাইরে থেকে চাল আমদানি করে বাজার পরিস্থিতি ঠিক রাখা হবে বলে আশ্বাস দেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো প্রকার চালের ঘাটতি নেই, অযথা এক মাসের জায়গায় তিন মাসের ক্রয় করার কোনো প্রয়োজন নেই, এটা আমরা নির্দ্বিধায় বলছি। এই সুযোগে করোনাকে পুঁজি করে বাজারে এমন কথা ছড়ালে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। বাজারে ২৫টি মনিটরিং টিম আছে। প্রয়োজনে এটাকে আরও বৃদ্ধি করে মনিটর করবো। আমরা শক্ত অবস্থানে আছি, কোনোক্রমেই এটাকে নিয়ে বাজে ব্যবসা করতে দেওয়া যাবে না। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আল্লাহকে একটু ভয় করেন, মানুষকে ভালোবাসেন, মানুষকে সেবা দেন, দেশের প্রতি একটু আনুগত্য স্বীকার করেন, দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলেন এটাই আমাদের মেসেজ।
তিনি বলেন, প্রকৃত ব্যবসায়ী-মিলারদের উচিত মানবতার প্রশ্নে আরও মানুষের সেবা দান করা। সেখানে যদি কেউ এটা নিয়ে বাড়তি সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করে, খাদ্য মন্ত্রণালয় সে বিষয়ে নজর রাখবে। আমরা আরও মনিটরিং জোরদার করছি। সামনে রোজাকে সামনে রেখে যাতে কোনো প্রকারের অবৈধ ব্যবসা কেউ করতে না পারে, আমরা সে ব্যাপারে সচেষ্ট আছি। ভোক্তাদের চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। কেউ মজুদ রেখে কষ্টে ফেলার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াসহ আমরা বাইরে থেকে চাল আমদানি করবো। চালের দাম আমরা বাড়তে দেব না।
যারা বেশি খাদ্য সংগ্রহ করছে সে বিষয়ে করণীয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভোক্তাদের বলতে চাই, চালের কোনো সংকট নেই। অযথা বাড়তি চালক্রয়ের প্রয়োজন নেই। ব্যবসায়ীরা বাজে কথা বলে করোনার অজুহাত দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেবো। আমাদের ২৫টি মনটরিং টিম আছে। প্রয়োজনে তা আরও বাড়াব। এটা শুধু খাদ্য মন্ত্রণালয় নয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর সেলও মনিটরিং করছে। আমরা শক্ত অবস্থানে আছি।
বাড়তি খাদ্য বিক্রি না করার বিষয় ব্যবসায়ীদের কোনো বার্তা দেবেন কি না- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এই বার্তার চিঠি আমরা ইতোমধ্যে রেডি করেছি। আমরা স্বরাষ্ট্র-বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ব্যবসায়ী এবং এফবিসিসিআই সব জায়গায় আজকে চিঠি দিয়ে দিচ্ছি। আমরা অসাধু ব্যবসায়ীদের ধরতে পারলে কী ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে আপনারা তা জানতে পারবেন। যে শাস্তি হবে আপনারা বাহবা দেবেন। ২৫ দিন পর হাওরের ধান পাব, সুতরাং চিন্তার কোনো কারণ নেই।
খাদ্যসচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

শর্টলিংকঃ