পর্দা নামলো অমর একুশে গ্রন্থমেলার

সোনালী ডেস্ক: পর্দা নেমেছে এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলার। গতকাল শনিবার শেষ দিনের মেলায় মিলেছিলেন পাঠক-প্রকাশক। আসুক না বিদায়ের ক্ষণ, শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে না কাউকে। দুই মলাটে বন্দি বই তাদের মনের খোরাক জোগাবে, দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা করার ধৈর্য দেবে। গ্রন্থমেলার শেষ দিন সন্ধ্যা হতেই নতুন বইয়ের গন্ধে মেতে থাকা অগণিত মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণ। যদিও শেষ দিনের মেলায় বিদায়ের সুর, তবুও তালিকা ধরে কেনাকাটা, হাসিঠাট্টা, দল বেঁধে কোনো স্টলে গিয়ে বইয়ের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়া সবই আছে মেলা চত্বরে। যারাই এসেছেন, বাড়ি ফিরেছেন ব্যাগভর্তি বই নিয়ে।
মেলায় আগত পাঠক হাসনাত নাঈম বলেন, লেখক-পাঠকদের যে মিলনমেলা, তা আজ ভাঙবে। সারাবছরতো আর এভাবে প্রিয় লেখকদের সান্নিধ্য পাওয়া যায় না, তাই শেষ সময়ে আবারো এলাম। শেষ সময়ে কিছু বই কিনেই ফেরার ইচ্ছে আছে। শেষ সময়ে মেলার বিক্রিও ছিল অনেক ভালো। এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, মেলায় শেষ সন্ধ্যায় পাঠকের সংখ্যা অনেক বেশি। বই বিক্রির পরিমাণও বেড়েছে। যারা আসছেন, প্রায় সবাই ফিরছেন অনেক অনেক বই কিনে। এদিকে বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্রের হিসাবে এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে ৪ হাজার ৯১৯টি। যা গতবারের তুলনায় ২৩৪টি বেশি। গতকাল শনিবার গ্রন্থমেলার সমাপনী দিনে বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এ বছর সর্বোচ্চ বই প্রকাশিত হয়েছে কবিতার। যা সংখ্যা ১ হাজার ৫৮৫টি। এ ছাড়া গল্প ৬৪৪টি, উপন্যাস ৭৩১টি, প্রবন্ধ ২৭১টি, গবেষণা ১১২টি, ছড়া ১১১টি, শিশুতোষ ২০৩টি, জীবনী ১৪৯টি, রচনাবলি ৮টি, মুক্তিযুদ্ধ ১৫২টি, নাটক ৩৪টি, বিজ্ঞান ৮৩টি, ভ্রমণ ৮২টি, ইতিহাস ৯৬টি, রাজনীতি ১৩টি, স্বাস্থ্য ৩৬টি, রম্য ৪০টি, ধর্মীয় ২০টি, অনুবাদ ৫৭টি, অভিধান ১৪টি, বৈজ্ঞনিক কল্পকাহিনী ৬৭টি, বঙ্গবন্ধু বিষয়ক ১৪৪টি এবং বিবিধ বিষয়ে বই এসেছে ২৬৮টি। এ হিসাবের বাইরেও মেলায় সহ¯্রাধিক নতুন বই এসেছে বলে ধারণা করছে বাংলা একাডেমি।

শর্টলিংকঃ