পরীক্ষা কেন্দ্রে বকাঝকার অপমানে দুই এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা


বাগমারা প্রতিনিধি: পরীক্ষা কেন্দ্রে বকাঝকার অপমানে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই এসএসসি পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। পুলিশ বিষয়টি স্বীকার করেছে। তবে এ নিয়ে থানায় কোনো অভিযোগ নেই।
দুই শিক্ষার্থী হলো, উপজেলার কাঁঠালবাড়ি গ্রামের শহীদুল ইসলামের মেয়ে ফারজানা খাতুন ও মরুগ্রামের মেহের আলীর ছেলে সেলিম হোসেন। ফারজানা কাঁঠালবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ভবানীগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছিল। আর সেলিম পরীক্ষা দিচ্ছিল সাঁকোয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। সে ঝিকড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। ফারজানা পিইসি ও জেএসসিতে বৃত্তি পেয়েছিল।
আত্মহত্যা করা এ দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৪ ফেব্রæয়ারি বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রে ফারজানা খাতুনকে বকাঝকা করা হয়। তার পরীক্ষাটাও খারাপ হয়। এ কারণে বাড়ি ফেরার পর রাতে গলায় ফাঁস দিয়ে সে আত্মহত্যা করে। একইভাবে সেলিম আত্মহত্যা করে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে। গত সোমবার গণিত পরীক্ষা চলাকালে দেখে লেখার অভিযোগে তার খাতা কেড়ে নেয়া হয়েছিল।
সেলিমের পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কঠোর হতে হয়। বকাঝকারও প্রয়োজন পড়ে। কখনও কখনও খাতাও নিয়ে রাখতে হয়। কিন্তু আত্মহত্যার ঘটনায় আমরা বিব্রত।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে বকাঝকার কারণে এ দুই পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে হলে তো পরীক্ষকদের এ ধরনের ভূমিকা থাকে। তা না হলে তো পরীক্ষা হবে না।
তিনি বলেন, আত্মহত্যার ঘটনায় দুই পরীক্ষার্থীর পরিবারই থানায় কোনো অভিযোগ করেননি। তাই ময়না তদন্ত ছাড়াই তাদের মরদেহ দুটি দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তারা মরদেহ দাফন করেছেন।

শর্টলিংকঃ