পরিকল্পিত কৃষি ব্যবস্থা জরুরি

করোনা পরিস্থিতিতে কৃষির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে দ্বিমতের সুযোগ নেই। সেই কৃষিতে বেহাল অবস্থার কথা মাঝে মধ্যেই পত্রিকার খবর হয়ে ওঠে। গতকালের সোনালী সংবাদে প্রকাশিত ‘শ্রমিক সঙ্কটে তানোরের আলুচাষিরা’ শিরোনামের খবরটি আবারও বিষয়টি সামনে তুলে ধরেছে।

সার ও বীজ সঙ্কটের পর এবার শ্রমিক সঙ্কটে আলুচাষ ব্যাহত হচ্ছে। বাজারে আলুর সঙ্কট মোকাবিলার লক্ষ্যে আলুচাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষিরা একের পর এক সঙ্কটের মুখে পড়ছেন। অন্য যে কোনো বছরের চাইতে দুই গুণ বেশি দামে আলু বীজ কিনতে হয়েছে, সার কিনতেও গুণতে হয়েছে অতিরিক্ত টাকা।

এখন আলু রোপণের সময় দেখা দিয়েছে শ্রমিক সঙ্কট। ফলে অন্য বছর যেখানে বিঘাপ্রতি আলু রোপণে শ্রমিকের মজুরি ছিল দেড় হাজার থেকে ১৬শ টাকা সেখানে এবার গুণতে হচ্ছে দু’হাজার থেকে ২১শ টাকা। তারপরও শ্রমিক পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠেছে রাজশাহীর তানোর উপজেলায়। ফলে এ বছর আলুচাষে খরচ অন্য বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হবে, মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন অবস্থা যে অন্য জেলাতে নেই তা জোর দিয়ে বলা যাবে কি?

তানোরে আলুচাষের লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের চেয়ে বেশি ধরা হলেও বাস্তবে তা-ও ছাড়িয়ে যাবে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে। রোপা আমন মাড়াই শেষ হতে না হতেই সেখানে আলু রোপণ শুরু হয়েছে। কৃষি অফিস আলুচাষিদের সকল প্রকার সহযোগিতায় সার্বক্ষণিক প্রস্তুতির কথা জানালেও বাস্তবে তা কঠিন হয়ে পড়েছে।

কারণ কৃষিতে পরিকল্পনার দুর্বলতা পদে পদে। নইলে নিত্যই সার, বীজ সঙ্কটে পড়তে হবে কেন চাষিদের। শ্রমিক সঙ্কটই বা হবে কেন? কৃষি শ্রমিকদের রেজিস্ট্রেশন থাকলে চাহিদা মেটানোর সম্ভাবনা আশা করা যেত। সব ক্ষেত্রেই চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তুতি থাকলে চাষিদের বিড়ম্বনা নিশ্চিতভাবে কমে যেত। অতিরিক্ত খরচ করে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিয়েও দুর্ভাবনায় থাকতে হতো না।

তাই জোর গলায় বলতে হয়, পরিকল্পিত কৃষি ব্যবস্থা জরুরি হয়ে উঠেছে।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ