পদ্মার দখল-দূষণ রুখবে কে?


বাংলাদেশে নদীর দখল-দূষণরোধে সরকার ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে । অথচ রাজশাহীর পাশের পদ্মানদীতে অবাধে চলছে দখল-দূষণের মোচ্ছব। ‘দূষণের কবলে পদ্মা’ শিরোনামে সোনালী সংবাদে প্রকাশিত শীর্ষ প্রতিবেদনে এ বিষয়ে ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে।

নগরীর কঠিন ও তরল বর্জ্য অবাধে ফেলা হচ্ছে পদ্মা নদীতে। বুলনপুর-কেশবপুর থেকে তালাইমারী-শ্যামপুর পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার শহর রক্ষা বাঁধের দোকানপাট ও নদীতীরের বাসাবাড়ির গৃহস্থালী ময়লা-আবর্জনা সবই ফেলা হয় নদীতে। এমনকি বাড়ি-ঘরের ভাঙা টাইলস, ফেলে দেয়া ইট-পাথর, কংক্রিটের ভংগ্নাংশও ফেলা হচ্ছে নদীর পাড়ে। এভাবে কৌশলে নদী দখল চলছে অনেক দিন ধরেই। শহর রক্ষা বাঁধ ঘেঁষে বিভিন্ন স্থাপনা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের রেস্তোরাঁ।

এসবে ব্যবহৃত পলিথিন, প্লাস্টিক বোতল ও অন্যান্য বর্জ্যও ফেলা হয় নদীতেই। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পাঁচটি স্লুইস গেটের মাধ্যমে নগরীর তরল বর্জ্য পড়ছে নদীতে। এভাবে প্রকাশ্যে নদী দখল-দূষণ হয়ে চললেও পরিবেশ ও নদী রক্ষায় জড়িত কোনো প্রতিষ্ঠানেরই ভ্রুক্ষেপ নেই। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর বা সিটি কর্পোরেশনের কোনো তৎপরতাই চোখে পড়ে না।

কিন্তু সম্প্রতি পরিবেশ দূষণের একটি ঘটনা নিয়ে আলোচনা উঠেছিল। গত কোরবাণীর ঈদের পর এক মৌসুমি চামড়াব্যবসায়ী পরিস্থিতির শিকার হয়ে ক্ষোভে-দুঃখে তার অবিক্রিত চামড়া পদ্মা নদীতে ফেলে দেন। এমন খবরে পরদিন পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নদী তীরে এসে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ তুলেন এবং দূষণের মাত্রা জানতে নদীর ওই স্থান থেকে দুই বোতল পানি নিয়ে পরীক্ষার জন্য বগুড়ায় পাঠান বলে জানা যায়। পরবর্তীতে এর ফলাফল জানার চেষ্টা করেও কিছু পাওয়া যায়নি। নদীর দূষণ জানতে এমন পদক্ষেপ থেকেই এই দপ্তরের কার্যকারিতা অনুমান করা কঠিন কিছু নয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মতোই নদী দখল-দূষণ নিয়ে সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের কার্যকর ভূমিকা নেই। কুমারপাড়ার মতো নদী তীরের এলাকায় আবর্জনা নেয়া ভ্যান ঠিক মতো আসে না, অলি-গলিতে ঢোকার ব্যবস্থাও নেই। ফলে ময়লা আবর্জনা নদীতে ফেলাই রীতি হয়ে উঠেছে। আগে বাঁধের আশপাশ থেকে প্লাস্টিকের কাপ, বোতল, পলিথিনসহ আবর্জনা সংগ্রহে কর্পোরেশনের ভ্যান দেখা গেলেও মাস ছয়েক থেকে তাদের দেখা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

শুধু পদ্মা নয়, রাজশাহীর আরেক নদী পবার বারনই একই ভাবে নাগরিক বর্জ্যে দূষণের শিকার হয়ে মরতে বসেছে। সেখানকার জলজ জীববৈচিত্র্য এর মধ্যেই নষ্ট হয়ে গেছে। পচা দুর্গন্ধময় পানিতে মাছ বাঁচে না। গোসল করলে গায়ে চুলকানি হয়। পদ্মার অবস্থাও এখন আর আগের মতো স্বাভাবিক নেই।

সিটি কর্পোরেশন হলেও রাজশাহীতে নেই কোনো বর্জ্য পরিশোধনাগার প্ল্যান্ট। ফলে কলকারখানার বর্জ্যরে সাথে নাগরিক বর্জ্যও অবাধে নদীর পানি দূষিত করছে। নানা কৌশলে দখল হচ্ছে নদী তীর। এ অবস্থায় নদীর দখল-দূষণ রুখতে সংশ্লিষ্টদের ঘুম কবে ভাঙবে তার ওপরই নির্ভর করছে পদ্মাসহ স্থানীয় নদ-নদীর পরিবেশ রক্ষা পাবে কি-না।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ