ন্যায়বিচার নিশ্চিতে যুগোপযোগী আইনের তাগিদ

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা এখনও ব্রিটিশ আইনের ওপর নির্ভরশীল। শত বছরেরও আগের ঔপনিবেশিক শাসকদের প্রণীত আইন যে স্বাধীন দেশের উপযোগী নয় সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আইনের সংস্কার না হওয়ায় দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল কর্মশালায় বক্তারা এমন কথাই বলেছেন।

বিদ্যমান আইন সংক্রান্ত এক গবেষণার ফলাফলের ওপর গত শনিবার অনুষ্ঠিত কর্মশালায় আইনের শিক্ষক, বিচার ও আইন বিভাগ সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সুস্পষ্ট ভাষায় বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার সাথে প্রচলিত অনেক আইনের মিল না থাকার উল্লেখ করেছেন। প্রতিটি আইন পরিবর্তনশীল।

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আইনের পরিবর্তন খুবই স্বাভাবিক। এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনের শাসনও ব্যাহত হয়। তাই ব্রিটিশ আমলের বিভিন্ন আইনের সংস্কার জরুরি হয়ে উঠেছে। কাজে লাগে না এমন আইনগুলো বাতিল করার তাগিদও উঠেছে বক্তাদের কথায়। ২শ বছরের আগের আইন দিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার করা সম্ভব নয় সেটাও বলেছেন তারা।

গবেষণায় সুনির্দিষ্ট এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিদ্যমান আইনের ত্রুটিগুলো তুলে ধরা হয়েছে।। আইনের বিভিন্ন অসঙ্গতি ও তারতম্য তুলে ধরে এসব ত্রুটি দূর করতে আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও শাসন বিভাগের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেয়া হয়েছে কর্মশালায়।

রাবির চারজন শিক্ষক ১৭৯৯ সালের ৫ নম্বর আইন থেকে ১৯৫৯ সালের ১২ নম্বর আইন পর্যন্ত মোট ৩০৬ আইনের ওপর গবেষণা করে ৬০টি আইন বাতিল, ৭১টির সামান্য সংস্কার, ৬৫ টির অধিকতর সংস্কার ও ১০২ টি আইন অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করেছেন। এই সুপারিশের গুরুত্ব বর্তমান পরিস্থিতিই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থা সময়ের চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে, এটা অজানা বিষয় নয়। বিচারালয়ে মামলার জট বিচার প্রক্রিয়ার রাশ টেনে ধরেছে। ফলে বিচারে দীর্ঘসূত্রতা বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তির শিকারে পরিণত করছে। এ অবস্থায় মান্ধাতা আমলের আইনগুলোর সংস্কার সাধনের সুপারিশ যুক্তযুক্ত বলেই মনে হয়।

বিচার দীর্ঘায়িত হওয়া বিচারহীনতার নামান্তর। তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিতে যুগোপযোগী আইন এবং বিচার প্রক্রিয়া সাবলিল করার বিকল্প নেই।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ