নেসকোর প্রি-পেইড মিটারে ভোগান্তির আশঙ্কা

  • 12
    Shares

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লি: (নেসকো) রাজশাহী অঞ্চলে প্রি-পেইড বৈদ্যুতিক মিটার বসানোর কাজ শুরু করেছে কিছু দিন আগ থেকে। শুরুতেই নাগরিকদের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হলেও কান না দিয়ে এর মধ্যেই শহরের প্রায় আড়াই হাজার বাড়িতে প্রি-পেইড মিটার বসানো হয়েছে। তবে গত শনিবার কুমারপাড়াতে বাধার মুখে পড়ে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে ঠিকাদারের লোকজন। লাগানো মিটার খুলে নিয়ে এলাকা ছাড়তে হয়েছে তাদের।

গত বছরের ৮ অক্টোবর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী রাজশাহী, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ জেলায় ৫ লাখ স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তখন থেকেই এই মিটারে ভোগান্তি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ হতে শুরু করে। ২৮ অক্টোবর এই মিটারের বিরোধিতায় নগরীতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। গ্রাহক ভোগান্তির আশঙ্কায় এই কর্মসূচি বাতিলের দাবি জানিয়ে মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও দেয়া হয়। কিন্তু বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে হয় না।

প্রি-পেইড মিটারে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের আগেই কার্ডে টাকা রিচার্জ করতে হবে। টাকা শেষ হওয়া মাত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। মোবাইলে যেমন কখন কয় টাকা কাটে ঠিক নেই, তেমনি প্রি-পেইড মিটারে কখন কি হবে তার ঠিক নেই বলেই আশঙ্কা সাধারণ মানুষের। বিষয়টি বোঝাতে ব্যর্থ হওয়াতেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কুমারপাড়া থেকে মিটার খুলে চলে আসতে বাধ্য হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকা ছিল বিদ্যুৎ গ্রাহকদের পক্ষেই। বিষয়টি নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি থাকার কথা অস্বীকার করা যাবে না।

এর স্বীকৃতি মিলেছে নেসকো কর্মকর্তার কথাতেও। রাজশাহীর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গ্রাহকদের বিরোধিতার কথা স্বীকার করলেও ভোগান্তির আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে গণশুনানি বা সেমিনার আয়োজন করে মানুষকে বোঝানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। যে কোনো পদক্ষেপের ক্ষেত্রে এমন পদক্ষেপই যে গ্রহণযোগ্য সেটা সম্ভবত আগে মনে ছিল না !

তাই প্রকাশ্যে বিরোধিতা সত্ত্বেও একতরফাভাবে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। রাজধানীসহ অন্যান্য শহরে প্রি-পেইড মিটারে গ্রাহক ভোগান্তির কথা তো কারও অজানা নেই। তারপরও গণশুনানি করে বিষয়টি পরিষ্কার না করে কেন ঠিকাদারের মাধ্যমে প্রি-পেইড মিটার লাগানো শুরু হলো ? আমরা জনমনের আশঙ্কাকে গুরুত্বসহকারে নেয়ার আহবান জানাই।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ