নিয়ম নীতি না মেনেই চলছে মসজিদ মিশন একাডেমীর কার্যক্রম

বিশেষ প্রতিনিধি: নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অনির্বাচিত কমিটি দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে নগরীর মসজিদ মিশন একাডেমী। শুধু তাই নয় কোন রকম অডিটও করা হয়নি এ পর্যন্ত। সভাপতির নির্দেশনাতেই পরিচালিত হয়ে আসছে এর কার্যক্রম।
সংশিৱষ্ট সূত্র বলছে ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নির্বাচন ছাড়াই সভাপতি নুর্বল ইসলাম তার মনগড়া কমিটি দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে কেউ সভাপতির এই অনিয়মের প্রতিবাদ করলেই তাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করা হয়। এতে করে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না।
জানা গেছে ১৯৭৬ সালে রাজশাহী সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে বাংলাদেশ মসজিদ মিশন রাজশাহী জেলা শাখার নামে নিবন্ধন করা হয়। যার নম্বর- ৯৬/(২১১)/৭৬ তারিখ-২৯/৬/১৯৭৬। গঠনতন্ত্রে সংস’াটি অরাজনৈতিক সংস’া হিসাবে কার্যক্রমের কথা উলেৱখ করলেও জামায়াত শিবির চক্র একে রাজনৈতিক সংস’ায় র্বপান্তর করেছে। তাদের দলীয় ক্যাডার বা সমর্থক ছাড়া অন্য কাউকে কার্যনির্বাহী কমিটিতে রাখা হয় না। দলীয় সভা করতে গিয়ে এই প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রেফতারের ঘটনাও আছে। অভিযোগ রয়েছে অদ্যবধি এখানে গঠনতন্ত্র মোতাবেক কোন কমিটি গঠন করা হয়নি। সমাজ সেবা অধিদপ্তরের নিয়ম মোতাবেক নিবন্ধনকৃত কোন সংস’ার নির্বাচন করতে হলে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের যে কোন একজন কর্মকর্তার উপসি’তিতে সংস’ার সকল সদস্য নির্বাচিত হতে হবে। কিন’ এই নিয়মকে বৃধাঙ্গুলি দেখিয়ে জামায়াত নেতার উপসি’তিতে নির্বাচন করা হয়।
এমনকি প্রতি বছর সংস’ার আয়-ব্যয় সমাজ সেবা থেকে অডিট করানোর নিয়ম থাকলেও আজ পর্যন্ত অডিট করানো হয়নি। সভাপতি তার ইচ্ছামত আয়-ব্যয় নিয়ন্ত্রন করে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানের এই টাকা রাজনীতির পেছনে ব্যয় করা হয়ে থাকে।
মসজিদ মিশন একাডেমীর হাতে লেখা যে গঠনতন্ত্র দিয়ে নিবন্ধন নেয়া হয়েছে তার ফটোকপিতে দেখা গেছে গঠনতন্ত্রের কোথাও সভাপতি বা সেক্রেটারী কারো স্বাৰর নাই।
কমিটি গঠন, অডিট এবং গঠনতন্ত্রের বিষয় নিয়ে একাডেমীর অধ্যৰ নুর্বজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন অধ্যৰ হিসাবে আমার যোগদান বেশী দিন হয়নি। তবে গঠনতন্ত্রে আমি কারো স্বাৰর দেখিনি। ২০১৮ সালের পর নির্বাচন হয়নি এবং সমাজ সেবা কতৃক অডিটও আমি হতে দেখিনি। এর বেশী তিনি আর কিছু বলতে অপরগতা প্রকাশ করেন।
একাডেমীর অনিয়মের বিষয় জানতে সভাপতি রাবি’র সহকারী অধ্যাপক নুর্বল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন অডিট করা হয়নি বিষয়টি সঠিক নয়। একবার অডিট করানো হয়েছে। আর ২০১৮ সাল থেকে নির্বাচন হয়নি এ বিষয়ে বলেন আমি অসুস’ থাকায় নির্বাচন হয়নি পুরানো কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া নির্বাচন সঠিক ভাবে করা হয়েছে।
এদিকে অডিট এবং নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার সমাজ সেবা অফিস রাজশাহীর উপ-পরিচালক হাসিনা মমতাজের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান ১৯৭৬ সালে নিবন্ধন পাওয়ার পর থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সাথে সমাজ সেবা অফিসের কোন যোগাযোগ নাই। তারা নিজেদের মত করে প্রতিষ্ঠান চালিয়ে আসছে। তিনি জানান বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োনীয় ব্যবস’া নেয়া হবে।
প্রশ্ন উঠেছে এই দীর্ঘ সময় একটি প্রতিষ্ঠান কোন রকম অডিট ছাড়া কি ভাবে পরিচালিত হয়। সূত্র বলছে তদন্ত করা হলে এই প্রতিষ্ঠানের নানান অনিয়ম এবং আত্মসাতের বিষয় উদঘাটন হবে।

শর্টলিংকঃ