নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা কোথায়!

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি। তারপরও রাজশাহীতেই এমন দিন কমই আছে যেদিন কমপক্ষে দুয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়তে না হয় নাগরিকদের। একইভাবে শিল্প মালিকরাও নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুতের অভাবে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে খরচ বেশি হলেও নিরুপায় তারা।

প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, সরকারের বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানিগুলো নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ দিতে না পারায় শিল্প মালিকরা কারখানার উৎপাদন ধরে রাখতে ক্যাপটিভ বিদ্যুতে ঝুঁকেছেন। যদিও গ্রিড বিদ্যুতের চেয়ে ক্যাপটিভ বিদ্যুতের খরচ বেশি। গ্রিড বিদ্যুতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ না পাওয়াই এর কারণ। তার ওপর রয়েছে ভোল্টেজের ওঠানামা। এতে উৎপাদন ব্যাহত হয়। পণ্যের ক্ষতি হয়। যার ফলে ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণে লোকসান গুণতে হয়। ভোল্টেজ ওঠানামায় যন্ত্রপাতিরও ক্ষতি হয়। জীবনকাল কমে যায়। এসব কারণে পণ্যের দাম বেশি হয়। দেশীয় বাজারে ভোক্তাদের পকেট কাটা যায়। বিশ্ববাজারে মূল্য প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে দেশীয় পণ্য।

দেশে এখন পর্যন্ত দৈনিক সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ব্যবহার ১২ হাজার ৩৮৩ মেগাওয়াট। গড় ব্যবহার ১১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি নয়। অথচ সরকারি-বেসরকারি মিলে ১৩৮ টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ২০ হাজার ৩৮৩ মেগাওয়াট। এই হিসাবে অন্তত সাড়ে ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকছে। চলতি বছরে আরও ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা। তারপরও দেশের বড় শিল্প-কারখানাগুলোকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎপাদিত বিদ্যুতের ওপরই ভরসা রাখতে হয়েছে।

এর কারণ হিসেবে বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে তাল রেখে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হওয়াকেই দায়ি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ জন্যই অতিরিক্ত উৎপাদন সত্ত্বেও বিদ্যুতের যাওয়া-আসা শেষ হচ্ছে না। সরবরাহ লাইন লোড নিতে না পারায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। এর মাশুল গুণতে হচ্ছে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের। শিল্প মালিকবা খরচ বেশি হলেও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করে চলতে পারলেও সাধারণ গ্রাহকদের নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও দুর্ভোগ সইতে হচ্ছে। এ অবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা কে দেবে ?

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ