নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা কি অসম্ভব?

করোনা ও বন্যার ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টাকে বেসামাল করে দিচ্ছে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতি। পেঁঁয়াজ, চালের পর এখন আলুর মূল্যবৃদ্ধিতে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। সপ্তাহ খানেকের ব্যবধানে রাজশাহীর বাজারে প্রতি কেজি আলুর দাম বেড়েছে ১০ টাকা। এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ক্রেতারা সৃষ্ট পরিস্থিতিতে মগের মুল্লুকের সাথে তুলনা করছেন।

বাজারে এখন এক কেজি আলু ৫০ টাকার কমে পাওয়া যায় না। অথচ দেশে আলুর কোনো ঘাটতি নেই। সরবরাহে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে ক্রেতার পকেট কাটছে আলু ব্যবসায়ীরা। সরকার অবশ্য খুচরা, পাইকারি ও হিমাগার পর্যায়ে আলুর দাম বেঁধে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিয়েছে।

আলুর উৎপাদন, খরচ, বাজারে দাম ও হিমাগারে সংরক্ষণ নিয়ে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের গবেষণায় আলুর বাজারে কৃত্রিম সরবরাহ সঙ্কট সৃষ্টি করে অতি মুনাফার প্রমাণ মিলেছে। ফলে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার থেকে হিমাগার পর্যায়ে ২ থেকে ৫ শতাংশ মুনাফা রেখে কেজি প্রতি ২৩ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ৪ থেকে ৫ শতাংশ মুনাফা যোগ করে ২৫ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মুনাফায় সর্বোচ্চ ৩০ টাকা দাম বেঁধে দেয়া হয়েছে। তবে বাজারে এর প্রভাব এখন পর্যন্ত পড়েছে বলে জানা যায়নি।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে বাজারে বিক্রি হওয়া আলুর উৎপাদন খরচ কেজি প্রতি ৮ টাকা ৩২ পয়সা, আর হিমাগারে রাখা আলুর মৌসুমের কেনা দাম, হিমাগার ভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিলে প্রতি কেজি আলুর হিমাগার গেটে দাম পড়ে ১৮ টাকা ৯৯ পয়সা। অর্থাৎ হিমাগার থেকে ২০ টাকা দামেই লাভবান ব্যবসায়ীরা। করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর সময় হিমাগার পর্যায়ে আলু বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি ২২ টাকা ৫০ পয়সা। এতে সংরক্ষণকারী আলু ব্যবসায়ীরা লাভ করেছে কেজিতে ৩ টাকা ৫১ পয়সা। তাই বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির পেছনে আলু ব্যবসায়ীদের কারসাজিকেই দায়ি করা হয়েছে কৃষি বিভাগের প্রতিবেদনে।

ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পেঁয়াজের দাম হয় আকাশ ছোঁয়া, তারপর চালের দামবৃদ্ধির পর আলুর দাম বৃদ্ধি রেকর্ড ভঙ্গ করার পেছনে যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের মতে দেশে আলুর ঘাটতি নেই। একইভাবে চাল ও পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদের কথাও বলা হচ্ছে। তাহলে বাজারে এসব পণ্যের দাম পাগলা ঘোড়ার মত দাপিয়ে বেড়ায় কিভাবে ? বাজার নিয়ন্ত্রণের সুব্যবস্থা থাকলে কি নিত্য পণ্যের দাম এভাবে অনিয়ন্ত্রিত হতে পারতো?

বাজার নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পিত ও সমন্বিত ব্যবস্থার কথা দীর্ঘদিন থেকেই বলা হচ্ছে। এ নিয়ে লেখালেখিও কম হয়নি। কিন্তু বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলা যাবে না। এর সুযোগ নিয়েই অতি মুনাফাখোর ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ক্রেতাদের পকেট কেটে চলেছে। এটা বন্ধ করা কি অসম্ভব?

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ