‘নাগপুরী’ কমলালেবু চাষে সাফল্য

  • 117
    Shares

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরে বাগাতিপাড়ায় রহিমানপুর গ্রামের কৃষক সাজেদুর রহমান নাগপুরী’ জাতের কমলা লেবু চাষের সাফল্যে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করছেন। তিনি লিজ নেওয়া আড়াই বিঘা জমিতে ‘নাগপুরী’ জাতের কমলা লেবুর বাগানে সফলতা পেয়েছেন।।

উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের রহিমানপুর গ্রামের পাশের মাঠে কৃষক সাজেদুর রহমানের নাগপুরী’ জাতের কমলা লেবুর বাগান। সেখানে প্রতি গাছে অসংখ্য কমলা শোভা পাচ্ছে। কমলার ভারে গাছগুলো নুয়ে পড়েছে। প্রত্যেক গাছে ১৫ থেকে ২০ কেজি কমলা শোভা পাচ্ছে। তাঁর পরামর্শে এলাকার অনেক কৃষকই ‘নাগপুরী’ কমলা লেবু চাষে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন।

সাজেদুর রহমান চলতি বছরে অক্টোবর মাসে কমলা বিক্রি শুরু করেছেন। তিনি আগামী জানুয়ারি মাস পর্যন্ত পুরোদমে কমলা বিক্রির আশা করছেন। তিনি চলতি মৌসুমে ৮০ থেকে ১০০ মণ কমলা বিক্রির স্বপ্ন দেখছেন। এ মৌসুমে তাঁর দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। গত মৌসুমে তিনি এক লাখ ৩৫ হাজার টাকার কমলা বিক্রয় করেছেন।

বর্তমার সাজেদুর রহমানের বাগানে বিভিন্ন এলাকার দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের সমাগম ঘটছে। নাটোরের আব্দুলপুর থেকে আসা ফল ব্যবসায়ী মাসুদ রানা জানান, তিনি সপ্তাহে দূ’দিনে ৭ থেকে ৮ মণ কমলালেবু ক্রয় করেন।

অপর ক্রেতা নাটোর ষ্টেশন বাজার এলাকার ফল ব্যবসায়ী সেন্টু আলী জানান, এখানকার উৎপাদিত কমলার উপরে সবুজ ও হলুদের মিশ্রণ এবং ভেতরে খানিকটা সাদাটে। তিনি এ বাগান থেকে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি ক্রয় করে প্রতি কেজি ৩০থেকে ৪০টাকা লাভে বিক্রি করেন।

সাজেদুর রহমান চার বছর আগে কমলা লেবুর চাষ শুরু করেন। তিনি আড়াই বিঘা জমি বার্ষিক ৩০ হাজার টাকা হিসাবে ১০বছর মেয়াদে নগদ ৩ লাখ টাকায় লিজ নিয়ে কমলালেবু চাষ করছেন। দিনাজপুর থেকে আনা আড়াই’শ কমলার চারা দেড় বছরের মাথায় ফল দিতে শুরু করে। ৮থেকে ১০ ফুট উচ্চতার কমলা গাছের পরিচর্যায় তেমন কোন বেগ পেতে হয় না। নাগপুরী কমলালেবু গাছ একাধারে ১০ থেকে ১৫ বছর ফল দেয়।

উৎপাদিত কমলার স্বাদ সম্পর্কে স্থানীয়রা জানালেন, মিষ্টির সাথে একটুখানি টকের মিশ্রণ বাগাতিপাড়ায় উৎপাদিত কমলাকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট এনে দিয়েছে। পাহাড়ের কমলা এখন সমতলে চাষ হচ্ছে এবং এর স্বাদ বাজারের প্রচলিত কমলার প্রায় কাছাকাছি। তাছাড়া ইতিহাস ঐতিহ্যে নাটোরের পরিচিতিতে কমলা আরও এক নতুন মাত্রা যুক্ত করবে।

উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে বাতাবী লেবুর গাছের ডালের সাথে কমলা লেবুর গাছের ডাল গ্রাফটিং করে কমলা লেবুর চারা তৈরি করছেন তিনি। এবং আকার ভেদে প্রতিটি চারা এক’শ থেকে দুই’শ টাকায় বিক্রয় করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোমরেজ আলী জানান, অর্গানিক কমলা উৎপাদন এবং প্রচারনার মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। এ উপজেলায় মাল্টা চাষে সফলতার পাশপাশি নাগপুরী কমলা চাষেও ক্রমান্বয়ে সফলতা আসছে। বিভিন্ন অপ্রচলিত ফল ও ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে বাগাতিপাড়ার কৃষি। কমলা চাষের পরিধি বাড়াতে কৃষি বিভাগ সব রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ