নতুন করদাতার সন্ধানে কর অঞ্চল

স্টাফ রিপোর্টার: আয়কর আদায় বাড়াতে নতুন করদাতার সন্ধানে নেমেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজশাহী কর অঞ্চল। রাজশাহী বিভাগের পাঁচ জেলা থেকে অন্তত ৪০ হাজার ব্যক্তিকে করের আওতায় আনতে ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, তারা সফল হবেন।
অবশ্য রাজশাহী কর অঞ্চলে প্রতিবছর করদাতার সংখ্যা বাড়ছেও। রাজশাহী কর অঞ্চল থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আয়কর আদায় হয়েছিল প্রায় ৩২১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। পাঁচ বছরে আয়কর আদায়ের এই পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আয়কর আদায় হয়েছে প্রায় ৭৪১ কোটি টাকা। এবার চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ১০৭ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। লক্ষ্য অর্জনেই নতুন করদাতার শনাক্তে মাঠে নেমেছে কর অঞ্চল।
রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কর কমিশনারের নেতৃত্বে রাজশাহী কর অঞ্চলের কর্মকর্তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় শুরু করেছেন। আগামী সোমবার রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের হড়গ্রাম নিউ মার্কেট ও মার্কেট সংলগ্ন বাজারে জরিপ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিবছরই রাজশাহী অঞ্চলে করদাতার সংখ্যা বাড়ছে। রাজস্ব আদায়ও বাড়ছে। তাই এ বছর তারা যে আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন তা অর্জন করা খুব কঠিন হবে না।
কর কমিশনার মুহাম্মদ মফিজউল্ল্যা জানান, ‘মুজিব শতবর্ষের অঙ্গীকার, কর প্রদানের সুফলে সবাই হব অংশীদার’ সেøাগানে কর অঞ্চল রাজশাহীর আওতাভুক্ত রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে জরিপ কার্যক্রম চলছে। এই ৫ জেলা থেকে ৪০ হাজার নতুন করদাতা শনাক্তকরণের উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। তিনি বলেন, রাজশাহীর ব্যবসা-বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র হড়গ্রাম নিউমার্কেট ও মার্কেট সংলগ্ন বাজার। এখানে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে এবং অনেকের আয় করযোগ্য সীমার উপর হলেও তাদের ই-টিআইএন নেই। ফলে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ১১৫ ধারার কার্যক্রম গ্রহণ করে আগামী ২ মার্চ সোমবার হড়গ্রাম নিউমার্কেট এবং মার্কেট সংলগ্ন বাজারে জরিপ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। এসময় নতুন করদাতাদের অনলাইনে নিবন্ধন প্রদান করার পাশাপাশি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ইটিআইএন প্রদান করা হবে। তাদের রিটার্ন ও ইটিআইএন ফরম পূরণে সার্বিক সহযোগিতাও করা হবে।
রাজশাহী কর অঞ্চলের উপ-কর কমিশনার আবু নসর মো. মাহবুবুজ্জামান জানান, নতুন করদাতার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ড, ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি ও পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি ছবি লাগবে। জরিপের দিন প্রয়োজনীয় এসব কাগজপত্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণের জন্য রাজশাহী কর অঞ্চলের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে হড়গ্রাম মার্কেটে জরিপ সংক্রান্ত বিষয়ে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। জরিপ কার্যক্রম সম্পর্কে ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে কর কমিশনার নিজউ মতবিনিময় করেছেন। এ সময় ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরা জাতীয় রাজস্ব আহরণে জরিপ কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সহযোগিতার বিষয়ে আশ্বস্ত আয়কর বিভাগকে আশ^স্ত করেছেন।
এদিকে এবারের কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সম্প্রতি কর কমিশনার মুহাম্মদ মফিজ উল্ল্যা’র সভাপতিত্বে রাজশাহী কর অঞ্চলের আওতাভুক্ত ৫ জেলার কর কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা হয়েছে। সভায় বার্ষিক বাজেট, লক্ষ্যমাত্রা, আদায়, বকেয়া ও অগ্রিম আয়কর আদায়, অডিট মামলা নিষ্পত্তি, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়ার বিপরীতে উৎসে কর কর্তন, ইট ভাটার আয়কর, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভায় ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন উৎস করের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সভা থেকে বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী কাজ করছেন কর্মকর্তারা।

শর্টলিংকঃ