নগরীর অন্য দিঘিগুলোর ঐতিহ্যও ফেরানো হোক

রাজশাহী মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদিঘি ফিরে পেতে যাচ্ছে হারানো ঐতিহ্য। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এখন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে সংস্কার কাজ। কাজ শেষ হলে তিনদিক থেকেই সোনাদিঘির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে নগরবাসী। এর চারপাশে গড়ে তোলা হবে পায়ে হাঁটার পথসহ মসজিদ, উন্মুক্ত মঞ্চ ও তথ্য প্রযুক্তি পাঠাগার। নতুন রূপে সোনাদিঘি হয়ে উঠবে নগরীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র।

এক সময় পৌরসভা ভবনের পাশে সোনাদিঘির চারপাশ উন্মুক্ত ছিল। টলমল স্বচ্ছ পানি পান করা যেত। এলাকাবাসীর রান্নার কাজও চলত। পদ্মা নদীর সাথে যুক্ত থাকায় বর্ষায় পদ্মার পানি ঢুকত দিঘিতে। নদীর ঘোলা পানি থিতিয়ে যাওয়ার পর দেখা মিলত স্বচ্ছ পানির। আশির দশকে উন্নয়নের নামে সোনাদিঘির চারপাশে স্থাপনা গড়ে উঠতে শুরু করে। ঢাকা পড়ে যায় সোনাদিঘি।

২০০৯ সালে বর্তমান মেয়রের উদ্যোগে পিপিপি’র আওতায় পৌরসভা ভবন ভেঙে ১৬তলা বিশিষ্ট সিটি সেন্টার নির্মাণ ও সোনাদিঘি নতুন রূপে সাজিয়ে তোলার চুক্তি হলেও কাজ ঠিকমতো হয়নি। অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে এখন সিটি সেন্টার ও সোনাদিঘির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। মসজিদসহ দিঘিপাড়ের দোকানগুলো সিটি সেন্টারে স্থানান্তরে নির্মাণ কাজের বাধা দূর হয়েছে। আধুনিক বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে সিটি সেন্টার আর সোনাদিঘির বিনোদনকেন্দ্র হয়ে ওঠা এখন সময়ের ব্যাপার।

তখন পদ্মাপাড়ের মত সোনাদিঘির চারপাশেও মানুষ অবসর কাটাতে পারবে। পরিবারসহ বসে দিঘির সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে। রাতে আলোকায়ন থাকবে, থাকবে ফোয়ারা। আবার নগরীর অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র হয়ে উঠবে সোনাদিঘি।

নতুন রূপে সোনাদিঘির আবির্ভাব নগরীর অন্যান্য দিঘি-পুকুরগুলো রক্ষার আশা জাগিয়ে তুলেছে নগরবাসীর মনে। এক সময় পুকুরের নগরী হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর বেশির ভাগ পুকুরই এর মধ্যে ভরাট হয়ে গেছে। যে কটি এখনও টিকে আছে সেগুলো রক্ষার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেরি হলে চিরতরে হারিয়ে যাবার আশঙ্কা অমূলক নয়। ছোট-বড় পুকুর ভরাট করার অপচেষ্টা ঠেকাতে এখনই ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। অন্যান্য দিঘি-পুকুরের ঐতিহ্য রক্ষা করতে সংস্কারের পদক্ষেপ দ্রুতই নিতে হবে। আশা করি সিটি কর্পোরেশন এক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ