নগরীতে মাস্কের কৃত্রিম সঙ্কট

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পর রাজশাহীতে বেড়ে গেছে মাস্কের চাহিদা। ক্রেতাদের অতিরিক্ত চাপের কারণে দোকানে দোকানে ‘মাস্ক নেই’ ব্যানার ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। আবার বেশি দাম দিলে বের করে দেয়া হচ্ছে মাস্ক। এ অবস’ায় অভিযান শুর্ব করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরৰণ অধিদপ্তর।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় সাগর গার্মেন্ট ও হানিফ এন্টার প্রাইজ নামে দুটি দোকানকে তিন হাজার টাকা করে মোট ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরৰণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান আল মার্বফ এই জরিমানা করেন। এ দুটি দোকানে অতিরিক্ত দামে মাস্ক বিক্রি করছিল।
এদিকে নগরীর কসমেটিকস থেকে শুর্ব করে অধিকাংশ মুদি দোকানে মিলছে না হ্যান্ডওয়াশ ও স্যানিটাইজারও পাওয়া যাচ্ছে না। আবার ক্রেতাদের অতিরিক্ত চাপের কারণে নগরীর অধিকাংশ ফার্মেসি মালিকরা তাদের দোকানে ‘মাস্ক নেই’ ব্যানার ঝুলিয়ে দিয়েছেন। নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এবং লক্ষ্মীপুরের ফার্মেসিগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে ‘মাস্ক নেই’ লেখা ফেস্টুন ঝুলছে।
জিরোপয়েন্টে স্টার মেডিকেল হল ফার্মেসির বিক্রেতা আবু সাঈদ বলেন, আমরা ঢাকা থেকে মাস্ক নিয়ে থাকি। গত তিনদিনে আমাদেরকে কোনো মাস্ক সরবরাহ করা হয়নি। যা ছিল তা সোমবার দুপুরের মধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে। আমরা ১৫ টাকা দরে বিক্রি করেছি। বিকালে মাস্ক ক্রেতাদের ব্যাপক চাপ ছিল। বাধ্য হয়ে মাস্ক নেই ফেস্টুন টানিয়েছি।
নগরীর ফার্মেসিপাড়া হিসেবে পরিচিত লক্ষ্মীপুরেও অধিকাংশ দোকানে মাস্ক নেই লেখা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ‘সার্জিক্যাল অ্যান্ড ড্রাগস’ ফার্মেসির বিক্রেতা সবুজ বলেন, রোববারই আমাদের মাস্ক শেষ। দিব কোথা থেকে? কিন’ সবাই এসে বলে লুকিয়ে রেখেছি! ঝামেলা করতে চাই না, তাই লেখা টানিয়েছি।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান আল মার্বফ বলেন, এখন মাস্কের চাহিদা বেশি। সেই সুযোগে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে দেখতে গিয়ে এমন প্রমাণও পাওয়া যায়। তাই দুটি দোকানকে জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শর্টলিংকঃ