নগরীতে ভিন্ন কৌশলে চলছে পুকুর ও জলাশয় ভরাট

স্টাফ রিপোর্টার: পুকুরের নগরী খ্যাত রাজশাহী এখন হতে চলেছে পুকুর শূন্য। বর্তমান সময়ে কিছুটা হলেও প্রশাসনের নজরদারির কারণে ভিন্ন কৌশল এবং পন্থা অবলম্বন করে চলছে পুকুর ও জলাশয় ভরাটের কাজ। এমনি অবস্থা দেখা গেছে নগরীর ২৩নং ওয়ার্ডের আহমদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১নং ওয়ার্ডের হড়গ্রাম এলাকা ও শিরোইল এলাকায়।
২৩নং ওয়ার্ড এলাকাবাসীর অভিযোগ সরকারি বিদ্যালয়ের সামনের এই পুকুর ভরাট নিয়ে মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী বলছেন, হঠাৎ করে গত শুক্রবার রাত থেকে এই পুকুরটি বালু ফেলে ভরাট কাজ শুরু হয়। পুকুরটি ভরাট হলে এলাকাবাসী মুক্ত অবগাহন থেকে বঞ্চিত হবেন। অন্যদিকে, হড়গ্রাম এলাকার সাজ্জাদের পুকুর এবং এক সময়ে সুকনের বর্তমানে এমানের পুকুরটিও ভরাট করা হচ্ছে অল্প অল্প করে। নগরীতে পুকুর ভরাটের যে গতি তাতে করে এই ধারা বন্ধ করা না গেলে তা পরিবেশের ওপর হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। পুকুর এবং জলাশয় কমে আসার কারণে নগরবাসী সামান্য বৃষ্টিতেই পড়েন জলাবদ্ধতার কবলে। অগ্নিনির্বাপণের জন্য দমকল পায় না কোন মুক্ত জলাধার।
হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বেলার সমীক্ষা অনুযায়ী ষাটের দশকের প্রথমে এই নগরীতে ছোট-বড় মিলিয়ে দিঘি, পুকুর, ডোবা, নয়নজুলি ও অন্যান্য জলাশয়ের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ২৮৩টি। ১৯৮১ সালে এই সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসে দাঁড়ায় ২ হাজার ২৭১টিতে। এই সংখ্যা ২০০০ সালের দিকে এসে দাঁড়ায় ৭২৯টিতে। আর বর্তমানে এই সংখ্যা কমে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩০০ টিতে। তবে এই সংখ্যা আরও কম বলেই মনে করছেন সংশি¬ষ্টরা।
বর্তমানে যে হারে জনবসতি গড়ে উঠছে সে চাহিদা মেটাতে অবশিষ্ট যে পুকুর, দিঘি এবং জলাশয়গুলি রয়েছে তা রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলেই মনে করছেন নগরবাসী। বর্তমানে গোচরে এবং অগোচরে বিভিন্ন কৌশল ও পন্থা অবলম্বন করে ভরাট করা হচ্ছে পুকুর ও জলাশয়। পরিবেশের স্বার্থে জলাশয় ভরাট বন্ধে প্রশাসনকে নিতে হবে সতর্ক অবস্থান।

শর্টলিংকঃ