নগরীতে পুকুর-জলাশয় ভরাট থামছেই না

স্টাফ রিপোর্টার: নগরীতে পুকুর, খাল-বিলসহ জলাশয় ভরাট থামছেই না। একের পর এক ভরাট হচ্ছে। ভরাট বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের নজরদারির অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন নগরবাসী।
স¤প্রতি নগরীর ২৩নং ওয়ার্ডের আহমদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের পুকুরটি ভরাট নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী বলছেন, গত ফেব্রæয়ারি মাসের শেষ দিকে এই পুকুরটি বালু ফেলে ভরাট কাজ শুরু হয়েছে। এলাকাবাসী পুকুরটি ভরাট বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন। এলাকাবাসী বলছেন চার লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে পুকুরের পাড় রক্ষায় প্রোটেকশনওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে রাতের আঁধারে চলছে পুকুর ভরাট কাজ। এলাকাবাসীর প্রশ্ন পুকুরটি যদি ভরাটই করা হয় তাহলে এখানে প্রোটেকশনওয়াল কেন নির্মাণ করা হচ্ছে।
এদিকে ক্রমাগত পুকুর ভরাট করায় এক সময়ের পুকুরের নগরী খ্যাত রাজশাহী হতে চলেছে পুকুর শূন্য। বিগত দিনের এক সমীক্ষায় জানা যায়, ষাটের দশকের প্রথমে এই নগরীতে ছোট-বড় মিলিয়ে দিঘি, পুকুর, ডোবা, নয়নজুলি ও অন্যান্য জলাশয়ের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ২৮৩ টি। ১৯৮১ সালে এই সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসে দাঁড়ায় ২ হাজার ২৭১টিতে। এই সংখ্যা ২০০০ সালের দিকে এসে দাঁড়ায় ৭২৯টিতে। হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকীর গবেষণা অনুযায়ী এই সংখ্যা এখন ৩ শ বা তারও কম।
এদিকে একের পর এক পুকুর এবং জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় মুক্ত অবগাহন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মানুষসহ পশু-পাখি। অন্যদিকে পুকুর এবং জলাশয় ভরাটের প্রভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতার। নাজুক হয়ে পড়ছে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা। সচেতন মহল মনে করছেন, পুকুর এবং জলাশয় ভরাটের যে মহোৎসব চলছে তা বন্ধ করা না গেলে পরিবেশ এবং প্রাণীক‚ল পড়বে বিপর্যয়ের মুখে।
এদিকে নগরীর ১নং ওয়ার্ডের হড়গ্রাম এলাকার সাজ্জাদের পুকুর এবং এক সময়ে সুকনের বর্তমানে এমানের পুকুরটিও ভরাট করা হচ্ছে অল্প অল্প করে। ২নং ওয়ার্ডের হড়গ্রাম নতুনপাড়া এলাকায় গত দুই তিন মাসের মধ্যে অন্তত চারটি পুকুর ভরাট করা হয়েছে। এগুলো হলো ডা. মজিবরের পুকুর, জনৈক সাত্তারের দুটি এবং জাকাউলের পুকুর। নগরীতে পকুর এবং জলাশয় ভরাটের যে গতি তা বন্ধ করা না গেলে প্রকৃতি এবং পরিবেশের জন্য তা হুমকি হয়ে উঠবে।
এদিকে কোন কোন জলাশয় ভরাট বন্ধে এলাকাবাসীর প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে প্রশাসন উদ্যোগ নিলে সাময়িকভাবে বরাট কাজ বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তী সময় ভিন্ন কৌশল এবং পন্থা অবলম্বন করে ভরাট প্রক্রিয়া অব্যহত থাকে।
নগরীর পুকুর ভরাট নিয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ ও ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরিফুর ইসলাম বাবুর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, নগরীতে যেভাবে পুকুর-জলাশয় ভরাট হচ্ছে তা বন্ধ হওয়া উচিত। তবে ভরাট বন্ধে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের আইনত তেমন কিছু করার নাই। এ বিষয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসন হস্তক্ষেপ করতে পারেন।
আর নগরবাসীর দাবি, দায়-দায়িত্ব যারই হোক পরিবেশের স্বার্থে জলাশয় ভরাট বন্ধে সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে কার্যকর উদ্যোগ।

শর্টলিংকঃ