নগরীতে পুকুরের মাছ লুট

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে জোর করে একটি পুকুরের মাছ লুট করার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বার ভোরে নগরীর হাজরাপুকুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে নগরীর চন্দ্রিমা থানায় অভিযোগ হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকেই মাছ লুটের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নগরীর হাজরাপুকুর এলাকায় ১৯৮৬ সালে আবদুস সামাদ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৫ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পরে আর সেখানে কোনো স্থাপনা করা হয়নি। ফাঁকা জমিতে অনেকেই বাড়ি করেছেন। ১৫ বিঘা জমির পাশে সামাদের একটি পুকুরও ছিলো। সে পুকুরের অর্ধেক রেলের এবং অর্ধেক এখন প্রয়াত সামাদের ছেলে আবুল কালাম আজাদের। অর্ধেক হলেও রেল কর্তৃপক্ষ বুঝে না নেয়ার কারণে পুরো পুকুরেরই খাজনা দিতে হয় কালামকে।
এখন পুকুরটিতে কালামের ভাতিজা সাজ্জাদ হোসেন রিপন মাছ চাষ করেন। তার বাড়ি নগরীর বোসপাড়া এলাকায়। তার অভিযোগ, গতকাল সোমবার ভোরে হাজরাপুকুর এলাকার সুজন আলী নামের এক যুবকের নেতৃত্বে ৮-১০ জন ব্যক্তি জোর করে তার পুকুর থেকে মাছ ধরে নিয়ে গেছেন। তাদের দাবি, পুকুরটি রেলের।
সাজ্জাদ হোসেন রিপন বলেন, দীর্ঘ সময় ধরেই তিনি পুকুরটিতে মাছ চাষ করে আসছেন। পুকুরের অর্ধেক তার চাচার। বাকি অর্ধেক রেল কর্তৃৃপক্ষ যে কোনো সময় বুঝে নিতে পারে। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ না আসার কারণে তিনি মাছ চাষ করেন। হঠাৎ মঙ্গলবার এলাকার কিছু ব্যক্তি পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরতে শুরু করেন। বাধা দিতে গেলে তারা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে নগরীর চন্দ্রিমা থানায় তিনি একটি অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চন্দ্রিমা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজু আহমেদ। তিনি বলেন, পুকুরে মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। আমি অভিযুক্ত সুজনের বাড়ি গিয়েছিলাম। তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এখন বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন মিমাংসা করে দেয়ার জন্য।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সুজন আলী বলেন, পুরো পুকুরটি রেল কর্তৃপক্ষের বলেই তিনি জানেন। সে জন্য পুকুরে পোনা মাছ ছেড়ে ছিলেন। এখন মাছ বড় হওয়ায় ধরা হয়েছে। তবে রেলের পুকুর জানলেও তিনি লিজ নেননি বলে জানিয়েছেন সুজন। বলেন, বাড়ির সামনে পুকুর। তাই মাছ ছাড়া হয়েছিল। তার এ দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন রিপন। তিনি বলেন, গায়ের জোরে তার ছাড়া ৭-৮ মণ মাছই ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

শর্টলিংকঃ