নগরীতে চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মাস্কের দাম

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী নগরীতে বেড়েই চলেছে হ্যান্ড গøাভস ও সার্জিক্যাল মাস্কের দাম। বিক্রেতারা বলছেন, চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সেই প্রভাব পড়েছে এই দুটি পণ্যে। আর বাংলাদেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর মানুষ হুমড়ি খেয়ে মাস্ক কিনতে শুরু করেছেন। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে গেছে।
নগরীর সাহেববাজার এলাকার বিক্রেতা নাজমুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক দিনে মাস্কের চাহিদা অনেক বেড়েছে। আগে প্রতিদিন দুই থেকে তিন বাক্স মাস্ক বিক্রি হতো। এখন প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ বাক্স বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিটি বাক্সে ৫০ পিস মাস্ক থাকে। আগে এক বাক্স মাস্ক বিক্রি করতাম ৬০ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজার থেকে আমাদেরও আগের চেয়ে বেশি দামে মাস্ক কিনতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সার্জিক্যাল মাস্ক সাধারণত চীন থেকে আমদানি করা হয়। চীনে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আমদানির হার কমে গেছে। চীনের রপ্তানিকারকরা এখন প্রতি বাক্স ১০০ টাকার কমে বিক্রি করতে রাজি হচ্ছেন না। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, ঘণ্টায় ঘণ্টায় দোকানে বাড়ছে মাস্কের দাম। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দোকানিরা ইচ্ছে করেই দাম বাড়াচ্ছেন বলেও তাদের অভিযোগ।
এদিকে দেশে তিন ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর যেন কেউ মাস্কসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের দাম বাড়াতে এবং অবৈধ মজুত করতে না পারে, সেজন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই পরামর্শ দেন। আদালতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষে প্রতিবেদন তুলে ধরেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. মো.আমিনুল হাসানের দেওয়া এই প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর আদালত বলেন, করোনা ভাইরাস ছড়ানোর পর মাস্ক ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। এখন মানুষের মধ্যে একটা সচেতনতাও তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগে এটা নিয়ে বাজারে কোনও ধরনের ব্যবসা হয় কিনা পেঁয়াজের মতো, সেটা খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে। কেউ যেন বেশি দাম না নিতে পারে, মজুত না করতে পারে।
এ সময় আদালতে থাকা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মওদুদ আহমদ বলেন, করোনার ব্যাপকতা যে কত, তা সরকারও অনুভব করেছেন। কিছু স্টেপ ওঁরা নিয়েছেন। মাস্ক নিয়ে বলবোÑ ১০ টাকার মাস্ক ১২০ টাকা নিচ্ছে। এটা নিয়ে একটা নির্দেশনা দিন। সরকার ইচ্ছে করলে মাস্ক ফ্রি দিতে পারে। জবাবে আদালত বলেন, ১০ টাকার ১৬ কোটি মাস্ক দেওয়ার মতো অবস্থা নেই। একটা হতে পারে, যারা কোনও রকমভাবে সন্দেহের মধ্যে বা আক্রান্ত হয়, বা হাসপাতালে যায়, তাদের জন্য ব্যবস্থা করা যায় কিনা, এটা হয়তো বাস্তব। এরপর মওদুদ আহমদ বলেন, চিকিৎসক ও নার্সদের পোশাকের বিষয়টি দেখতে হবে। এটা সরকারের স্টকে কত আছে? তখন আদালত বলেন, প্রতিবেদনে বলা আছে রোগ প্রতিরোধকারী পোশাক পর্যাপ্ত পরিমাণ আছে।
প্রতিবেদনে নতুন করোনা ভাইরাসের লক্ষণসমূহ সম্পর্কে বলা হয়, ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় ৫ দিন সময় লাগে। প্রথম লক্ষণ জ¦র। এরপর শুকনো কাশি। এক সপ্তাহের মধ্যে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। পরবর্তী সময়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন: কিডনি অকার্যকর হতে পারে এবং মৃত্যু হতে পারে। রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে বলা হয়, যেহেতু এই ভাইরাসটি নতুন, তাই এর কোনো টিকা/ভ্যাকসিন এখনো নেই। চিকিৎসা দিতে হয় লক্ষণভিত্তিক। অসুস্থ হলে ঘরে থাকুন, ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং মাস্ক ব্যবহার করুন। এ রোগ কীভাবে প্রতিরোধ করতে হয় সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘন ঘন সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোবেন (অন্তত ২০ সেকেন্ড), অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করবেন না, ইতোমধ্যেই আক্রান্ত এমন ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন, হাঁচি/ কাশির সময় বাহু/টিস্যু/কাপড় দিয়ে নাক মুখ ঢেকে রাখুন, অসুস্থ পশু/পাখির সংস্পর্শ পরিহার করুন, মাছ-মাংস ভালোভাবে রান্না করে খাবেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া চীন ও অন্যান্য আক্রান্ত দেশে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন।

শর্টলিংকঃ