নগরীতে অরক্ষিত অবস্থায় নির্মাণ হচ্ছে বহুতল ভবন

তৈয়বুর রহমান: রাজশাহী নগরীতে অরক্ষিত অবস্থায় নির্মাণ হচ্ছে অনেক বহুতল ভবন। নির্মাণকালীন কোন ভবনে প্রোটেকটর ব্যবহার করা হচ্ছে না। ফলে ঝুঁকি নিয়েই নির্মিত হচ্ছে ওইসব ভবন। আরডিএ’র কার্যকর অনুসন্ধান ও তত্ত¡াবধান না থাকায় বেশির ভাগ মালিকই নিয়মের তোয়াক্কা না করেই ৬ থেকে ১০ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করছেন। নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ অবস্থা দেখা গেছে। এর ফলে বহুতল ভবন নির্মাণে ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।
নগরীতে অরক্ষিত অবস্থায় ভবনের নির্মাণ কাজ চলতে থাকায় দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। বহুতল ভবন নির্মাণে আরডিএ’র কতকগুলো বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবন নির্মাণ চলাকালে প্রোটেকশন দিতে হবে। অধিকাংশ মালিকই তা আমলেই নিচ্ছেন না। এর ফলে নির্মাণশ্রমিক ও পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। অথচ ভবন নির্মাণে সাবধানতা অবলম্বন এবং আরডিএ’র বাধ্যবাধকতা মেনে চলার নির্দেশনা রয়েছে।
আরডিএ সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির নকশা পাস করার সময় কর্তৃপক্ষ লিখে নেন যে ভবন নির্মাণকালীন সুরক্ষার জন্য সকল ব্যবস্থা বাড়ির মালিককে করতে হবে। অন্যথা হলে বাড়ির নকশা বাতিল হয়ে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ার করে দেয়া হয়।
অনেকেই আইন ও নিয়মের ধারই ধারছেন না। এর ফলে প্রোটেকটর না ব্যবহার করেই নির্মাণ করছেন বড় বড় ভবন। এতে যেমন পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তেমনি নির্মাণ শ্রমিকরাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ অবস্থায় মালিকের অসবধানতা আর অবহেলার কারণে নির্মাণ শ্রমিক হতাহতের ঘটনা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। এর বিরুদ্ধে নির্মাণ শ্রমিকদের ঝুঁকি ভাতার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যেতে হচ্ছে। একদিক থেকে এটা যেমন একটি মানবিকতার ব্যাপার তেমনি আইন মান্য করার বিষয়।
অনেক মালিক খরচ কমাতে আইন ও মানবিকতার বিষয়টিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে আসছেন। অধিকাংশ বাড়ির মালিক সাবধানতার জন্য কোন নেট বা পর্দা ব্যবহার করেন না। ভবন নির্মাণকালীন সময়ে নেট বা পর্দা না দেয়ায় অহরহই ঘটছে দুর্ঘটনা।
উপশহার, ল²ীপুর, কোর্ট অঞ্চল, তেরখাদিয়া, পদ্মা আবাসিক এলাকাসহ নগরীতে নতুনভাবে গড়ে ওঠা অধিকাংশ আবাসিক এলাকায় নিয়ম না মেনে ভবন নির্মিত হচ্ছে।
নির্মণাধীন বহুতল ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সম্প্রতি একজন ফটোসাংবাদিক অল্পের জন্য রক্ষা পান। তিনি নগরীর উপশহর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। রাস্তার ওপারের নির্মণাধীন বহুতল ভবনের পাশে আসামাত্র ভবনের ৬ তলার ওপর থেকে বিরাটাকার ইট তার পাশে এসে পড়ে। এতে তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পান। তিনি অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও ভবিষ্যতে যে অন্যরা বেঁচে যাবেন তার নিশ্চয়তা কোথায় ?
এভাবে নগরীতে প্রোটেকশন ছাড়াই অনেক বহুতল ভবন নির্মিত হচ্ছে, পথচারীদের ঝুুঁকির মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে আরডিএর অথরাইজ অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রটেকশন বা পর্দা ঝুলানো ছাড়া কোন ভবন নির্মাণ করা যাবে না। এটা একেবারেই আরডিএর আইন বহির্ভূত। এভাবে কোন ব্যক্তি ভবন নির্মাণ করলে তার শাস্তির বিধান রয়েছে। এতে বাড়ির নকশাও বাতিল হয়ে যেতে পারে বলে তিনি জানান।

শর্টলিংকঃ