নওগাঁয় নিয়ম লঙ্ঘন করে গভীর নলকূপ স্থাপন

  • 16
    Shares


নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউপির রামপুরা গ্রামের মাঠে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছে। আরেকটি গভীর নলকূপ থেকে মাত্র ২৫০ ফিটের মধ্যে আরও একটি নলকূপ বসানোর ফলে জমিতে সেচ কাজ ব্যাহত হবার আশঙ্কা করে অবিলম্বে নিয়মবর্হিভূত ভাবে স্থাপন করা গভীর নলকূপ বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।

নতুন গভীর নলকূপ বসানোর যাবতীয় কাজ বন্ধের জন্য এল আর এম এগ্রো ইন্ড্রাষ্ট্রিজের নির্বাহী পরিচালক লায়লা আরজুমান্দ বানু উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা নিবার্হী অফিসার ওই নলকূপ স্থাপনের কাজ বন্ধ করে দিলেও কয়েকদিন পর পুনরায় ওইস্থানে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হচ্ছে।

লিখিত অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নিয়ামতপুর উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউপির রামপুরা গ্রামের মাঠে দীর্ঘদিন থেকে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আর ডি এ)’র একটি সেচ প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে চালু আছে। এ অবস্থায় নিয়ম উপেক্ষা করে মাত্র ২৫০ ফিটের মধ্যে রামকুড়া গ্রামেরআব্দুল কুদ্দুসের ছেলে হাসানুজ্জামান বাবু একটি গভীর নলকূপ বসানোর কাজ শুরু করে। এ বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নিবার্হী অফিসার গত ৯ মার্চ ওই গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ বন্ধ করে দেন। কিন্তু সম্প্রতি ইউএনও’র নির্দেশনা উপেক্ষা করে পুনরায় হাসানুজ্জামান বাবু গভীর নলকূপ বসানোর কাজ শুরু করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযোগকারি এলআরএম এগ্রো ইন্ড্রাষ্ট্রিজের নির্বাহী পরিচালক লায়লা আরজুমান্দ বানু বলেন, আমি র্দীঘদিন ধরে আমার গভীর নলকূপ থেকে ১২০বিঘা জমিতে সেচ দিয়ে আসছি। নিয়ম বহিভূর্তভাবে এতো কাছাকাছি দুটি গভীর নলকূপ বসানো হলে পানি সঙ্কটসহ দুটি ইরি স্কীমের ক্ষতি হবার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি অবিলম্বে হাসানুজ্জামান বাবুর অবৈধভাবে নলকূপ বসানোর কাজ বন্ধের দাবি করেন।

হাসানুজ্জামান বাবু বলেন, ওই মাঠে আমার ইরি স্কীম রয়েছে। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় একই দূরত্বে পুনরায় অন্যত্র গভীর নলকূপ বসানো হচ্ছে। নলকূপ বসিয়ে জমিতে সেচ না দিলে প্রায় ৭০বিঘা জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নিয়ামতপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ বলেন, ফসল রক্ষার স্বার্থে হাসানুজ্জামান বাবুকে গভীর নলকূপ পুনরায় বসানোর কাজে বাঁধা দিচ্ছি না। ফসল উঠার পর এ নিয়ে বসে সমস্যার সমাধান করা হবে।

নিয়ামতপুর উপজেলা নিবাহী অফিসার জয়া মারিয়া পেরেরা বলেন, প্রাথমিকভাবে রামকুড়া গ্রামের মাঠের ওই গভীর নলকূপ বসানোর কাজ বন্ধ করা হয়েছিলো। কিন্তু সেচ সঙ্কটে কিছু ফসল নষ্ট হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান উপজেলা নিবার্হী অফিসার।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ