নওগাঁয় উপজেলা চেয়ারম্যান-ইউএনওসহ ৮৮ জন আক্রান্ত

নওগাঁ ব্যুরো: নওগাঁয় কোভিড-১৯ এ আক্রান্তের সংখা ৫ শতাধিক ছড়ালো। নতুন করে জেলায় উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মীসহ মোট ৮৮ জন ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলা মোট আক্রান্তের সংখা দাঁড়ালো ৫৪০ জনে।

নওগাঁ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত নয়টার দিকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি অ্যান্ড মেডিসিন রিসার্চ ল্যাব থেকে ই-মেইলে ৭২০টি নমুনার ফলাফল আসে। এর মধ্যে ৯৩টি নমুনায় করোনা ‘পজিটিভ’ এসেছে। নতুন আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন বগুড়া জেলার বাসিন্দা এবং আগে আক্রান্ত দুজন রোগীর দ্বিতীয় দফা নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ এসেছে। অর্থাৎ নওগাঁ জেলায় নতুন করে ৮৮ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

নতুন আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সাপাহার উপজেলা পরিষদের চেয়্যারম্যান শাজাহান হোসেন ও ইউএনও কল্যাণ চৌধুরী রয়েছেন। এ ছাড়া নওগাঁ সদর উপজেলায় দুজন ও ধামইরহাটে একজন চিকিৎসক এবং সদর উপজেলায় তিন পুলিশ সদস্য করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। নতুন শনাক্ত ৮৮ জনের মধ্যে সদর উপজেলায় ৩৭ জন, ধাইমইরহাটে ১২ জন, বদলগাছীতে ৮ জন, সাপাহারে ৮ জন, পত্নীতলায় ২ জন, মহাদেবপুরে ৬ জন, পোরশায় ৫ জন, মান্দায় ৫ জন ও নিয়ামতপুরে ৫ জন রয়েছেন।

ডেপুটি সিভিল সার্জন মুনজের-এ মুর্শেদ বলেন, নতুন আক্রান্ত ৮৮ জনের অধিকাংশের শরীরেই তেমন কোনো জটিল উপসর্গ নেই। তাঁদের সবাইকে বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে (সঙ্গনিরোধ) থেকেই চিকিৎসা নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরও কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোভিড-১৯–এ আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা সব ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জেলায় প্রথম কোভিড রোগী শনাক্ত হয় গত ২৩ এপ্রিল। এরপর রোগীর সংখ্যা ১০০ ছুঁতে সময় লাগে ৩৯ দিন। কিন্তু পরের ১৩ দিনেই রোগীর সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। গত ২৫ জুন পর্যন্ত নওগাঁয় কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ছিল ২৪০ জন। এরপর সাত দিনে (গত ২৬ জুন থেকে গতকাল পর্যন্ত) আরও ৩০০ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ল। এটা মোট আক্রান্তের ৫৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

নওগাঁয় এ পর্যন্ত ৫৪০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকালের ২২ জনসহ এ পর্যন্ত ৩০৬ জনকে সুস্থ ঘোষণা করা হয়েছে। শনাক্তের হিসাবে সুস্থতার হার ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। নওগাঁয় করোনায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।

করোনা সংক্রমণের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নওগাঁ সদর উপজেলা। জেলা সদরে এ পর্যন্ত ২২০ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নওগাঁ পৌর এলাকাতেই ২০৪ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ