ধানের ন্যায্য দামের নিশ্চয়তা চায় চাষি

  • 9
    Shares

হাড় ভাঙা পরিশ্রম করে ফসল ফলায় চাষি। উৎপাদন ভালো হলেও শঙ্কা থাকে বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া যাবে কি-না। এখন বোরো ধান ওঠার অপেক্ষায়। আবাদও ভালো হয়েছে। তবুও শঙ্কা কাটেনা চাষির মন থেকে।

এক বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষে খরচ ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। বিঘাপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ মণ ধান হয়ে থাকে। সেই হিসাবে বাজারে ৮শ থেকে ৯শ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করতে পারলে লাভ হয় চাষির। কিন্তু এ দর পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার !

এ বছর সরকার কি পরিমাণ ধান সংগ্রহ করবে, দাম কত হবে তার কিছুই এখনও ঠিক হয়নি। আজ কালের মধ্যেই ধান কাটা পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে। সাধারণ চাষিদের ঘরে ধান মজুদ রাখার ব্যবস্থা কমই। ধার-দেনা শোধ, সাংসারিক চাহিদা মেটাতে বিক্রি না করে উপায় নেই। বাজারে দাম পড়ে গেলে অসহায়ভাবে লোকসান মেনেই বিক্রি করতে হয়।
তাছাড়া সরকারের ক্রয় কেন্দ্রেও সরাসরি ধান দেয়া সম্ভব হয় না নানা বাস্তব কারণে। সিন্ডিকেটের কারণে চাষিরা ভিড়তেই পারে না সেখানে। ফলে সরকারের দেয়া সুযোগ-সুবিধা থাকে নাগালের বাইরে। এ সবই চাষিকে শঙ্কায় রাখে।

এ বছর ধান আবাদে খরচ বেশি হয়েছে। এক ফোঁটা বৃষ্টি হয়নি বেশির ভাগ এলাকায়। সেচের পুরোটাই দিতে হয়েছে গভীর নলকূপ থেকে পানি কিনে। তাছাড়া ধান কাটা শ্রমিকের সঙ্কটও বিপাকে ফেলে চাষিদের। পাকা ধান খেতে রাখা যায় না। ঝরে পড়ার আশঙ্কা থাকে। আর যদি ঝড়-বাদল হয় হবে তো সর্বনাশ !

এসবের সমাধান দেখে না চাষি। সমাধানে কেউ এগিয়েও আসে না। তাই উৎপাদন ভালো হলেও আশঙ্কায় বুক কাঁপে চাষির। পরিকল্পিত চাষ ব্যবস্থার দেখা পেতে আর কত বছর অপেক্ষা করতে হবে ?

সরকার যদি আগে থেকেই ধান সংগ্রহের পরিমাণ ও কেনার দর ঠিক করে দেয় এবং দর যদি সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হয় তবে চাষিরা বাজারে দর কষাকষির সুযোগ পায়। কিন্তু তা হয় না। আর উৎপাদন খরচ হিসাব করে কৃষিপণ্যের দাম ঠিক করার ব্যবস্থাও নেই এদেশের চাষিদের। তেমনি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগও নেই। তাই শঙ্কিত চাষিরা ধানসহ কৃষিপণ্যের ন্যায্য দামের নিশ্চয়তা চায়।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ