ধর্ষণ ও মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ চাই

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারিতে বাংলাদেশও যখন মহাবিপদে তখন দেশজুড়ে ধর্ষণ ও মাদকের ঘটনাও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। সরকারের কঠোর পদক্ষেপ সত্ত্বেও কমছে না এমন সামাজিক অপরাধ। সর্বশেষ সিলেট এমসি কলেজ হোস্টেল গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনা দেশব্যাপী আলোড়ন তুলেছে।

করোনাকালে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ হোস্টেল দখল করে রাখা ছাত্রলীগের কিছু কর্মীর স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় এর মধ্যেই বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছে। ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ছাত্রাবাস থেকে স্বামীসহ ওই গৃহবধূকে উদ্ধারের সময় ছাত্রলীগ কর্মীর রুম থেকে অস্ত্রশস্ত্রও উদ্ধার করেছে। এমন দিন কমই আছে যেদিন সংবাদ মাধ্যমে ধর্ষণ, গণধর্ষণের খবর থাকে না।

একইভাবে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্তদের খবরও নিয়মিত পড়তে হয় পাঠকদের। অথচ মাদকের বিরুদ্ধে আইন-শৃংখলা রক্ষাবাহিনীর অভিযানের শেষ নেই। তারপরও দেশের এমন এলাকা খুঁজে পাওয়া কঠিন যেখানে মাদকের ছড়াছড়ি নেই। শুধু ছাত্র-যুবক নয়, সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও মাদকাসক্তদের খোঁজ পাওয়া যায়। সম্প্রতি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) সন্দেহভাজন পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্টে ২৬ সদস্যের পজিটিভ রিপোর্ট পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে। জিরো টলারেন্স ঘোষণার পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া যে মাদক ও ধর্ষণের মতো ঘটনা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়, এই ঘটনায় সেটা পরিষ্কার।

ধর্ষণ ও মাদকের বিরুদ্ধে আইন-শৃংখলা রক্ষাবাহিনীর তৎপরতা দেখা গেলেও অভিযুক্তদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির খবর কমই দেখা যায়। পরিকল্পিত প্রতিরোধ ব্যবস্থার অভাবেই যে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না জনমনে এমন ধারণাই প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। ধর্ষণে জড়িত অধিকাংশই মাদকাসক্ত বলেই জানা যায়। তাই ডিএমপির মত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ডোপটেস্ট বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। এমন ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হলে ধর্ষণ ও মাদকের ছড়াছড়ি নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি আসবে বলেই ধারণা করা যায়।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ