দেশের মানুষকে ঝুঁকিতে না ফেলতে বিদেশফেরতদের প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আহŸান

সোনালী ডেস্ক: বিদেশফেরতদের প্রতি দেশকে, দেশের মানুষকে ঝুঁকিতে না ফেলার অনুরোধ জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক। সোমবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে একথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ডা. জাহিদ মালেক বলেন, যারা বিদেশ থেকে আসছেন তারা দেয়াল টপকিয়ে পর্যন্ত পালাচ্ছেন। তারা কেন এটা করছে জানি না। কোয়ারেন্টাইন খুব জরুরি। তারা এটা মেনে চললে আরও ১০ জন আক্রান্ত হবে না। তারা কেন এটা করছে জানি না। আপনারা যদি কোয়ারেন্টাইনে থাকেন তাহলে আপনাদের পরিবারকেও আমরা রক্ষা করতে পারবো। রোগ নির্ণয় সহজ হবে। বিদেশ থেকে এখনও ফ্লাইট আসার বিষয়ে তিনি বলেন, যে দুএকটি ফ্লাইট চালু রয়েছে আগামীতে সেটাও হয়তো বন্ধ করা হবে। তখন আর একজনও আক্রান্ত ব্যক্তি দেশে ঢুকতে পারবে না।
মন্ত্রী বলেন, দেশকে দেশের মানুষকে আপনারা ঝুঁকিতে ফেলবেন না। ইরান, কাতার, সৌদি আরব ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ করলেও আমাদের কিন্তু বন্ধ হয়নি। আমরা সীমিত করতে বলেছি সেটাও হচ্ছে না। আপনার স্কুল-কলেজ ছুটির আবেদন জানিয়েছিলেন, বন্ধ ঘোষণার পর দেখা গেলো কক্সবাজার বিচ লোকে লোকারণ্য। এজন্য তো বন্ধ করা হচ্ছিল না। আমাদের নিজেদের সচেতন হতে হবে আগে। কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার কারণে সারাদেশে এখন প্রায় ১৮ হাজার মানুষ সেলফ কোয়ারেন্টাইনে আছেন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, করোনো শনাক্তকরণে এক লাখ কিট আমাদের হাতে আছে। কিট বা সরঞ্জাম নেই- এ বিষয় নিয়ে মানুষকে আতঙ্কিত করা ঠিক হবে না। তিনি দাবি করেন, অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থা অনেক ভালো। আমরা যদি সেফল কোয়ারেন্টাইন বা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন যথাযথভাবে নিতে পারি তাহলে ভয়ের কিছু নেই, করোনা ছড়াবে না। সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছি। জেলা পর্যায়ে ডিসি, এসপি, ইউনিয়ন পর্যায়ে চেয়ারম্যান, মেম্বাররা কাজ করছেন। সিটি করপোরেশনের মেয়র, কমিশনাররাও কাজ করছেন। বিদেশফেরত ব্যক্তিদের সেলফ কোয়ারেন্টাইন না মানার বিষয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, যারা বিদেশ থেকে এসেছেন, তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। জোর করে তাদের ধরে আনা হচ্ছে। কিন্তু তারা যদি নিজেরাই কোয়ারেন্টাইনে থাকেন তাহলে আমরা তাদের সেবা দিতে পারব, তাদের পরিবারকেও রক্ষা করতে পারব। কিন্তু পালিয়ে বেড়ালে কোনোটাই সম্ভব নয়। ‘তাদের (বিদেশফেরত) কোয়ারেন্টাইনটা জরুরি’ উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীও ওয়াকিবহাল। তিনিও আমাদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন। আমরা সেভাবে কাজ করে যাচ্ছি। যা যা প্রয়োজন সেগুলোর ব্যবস্থা করছি।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাস এখন বৈশ্বিক মহামারি। এতে সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ১৪ হাজারেরও বেশি মানুষ। এ ছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন প্রায় ৯৯ হাজার মানুষ। বাংলাদেশে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে গত ৮ মার্চ। এরপর দিন দিন এ ভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাবে দেশে এখন পর্যন্ত ২৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন দুজন। করোনার বিস্তাররোধে এরইমধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েতের ওপর। চারটি দেশ ও অঞ্চল ছাড়া সব দেশ থেকেই যাত্রী আসা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশের সব বিপণিবিতান। এ ছাড়া মুলতবি করা হয়েছে জামিন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি ছাড়া নিম্ন আদালতের বিচারিক কাজ। এমনকি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলাকে লকডাউনও ঘোষণা করা হয়েছে।

শর্টলিংকঃ