দেশের দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনার খসড়া অনুমোদন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সোনালী ডেস্ক: প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য নিরসনকে গুরুত্ব দিয়ে দেশের দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনার খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে। উন্নত দেশে যেতে ‘রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবে রূপায়ণ: বাংলাদেশের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১’ নামে ২০ বছর মেয়াদী এ পরিকল্পনটি তৈরি করেছে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। এতে ২০৪১ সালে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে নয় দশমিক নয় শতাংশ ও চরম দারিদ্র্য ধরা হয়েছে ০ দশমিক ৭ শতাংশ। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।
এছাড়া এ অনুযায়ী, মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু বেড়ে দাঁড়াবে ৮০ বছরে। এ ক্ষেত্রে ২০১৮ সালের হিসেবে গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৩ বছর থেকে ২০৩১ সালে বেড়ে হবে ৭৫ বছর। পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, ঐতিহাসিক উন্নয়ন দলিলের খসড়া অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে আমরা আরও কিছু বিষয় যোগ করব। এজন্য এক মাস কিছু কাজ করব। ঐতিহাসিক এই দলিল বাস্তবায়নে দেশ কল্যাণমূলক উন্নত হবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা অনুমোদন দেয়ার সময় মন্ত্রী ও সচিবদের সঙ্গে আলোচনায় কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর না করার ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এই আলোচনা হয়। এরপর সাংবাদিকদের সামনে আলোচনার সারবস্তু তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) ড. শামসুল আলম এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে শামসুল আলম বলেন, সোনাদিয়া দ্বীপে জীববৈচিত্র্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সেজন্য গভীর সমুদ্রবন্দর করলে সেটি বাধাগ্রস্ত হতে পারে; বাস্তুতন্ত্রে, ইকোলজিতে। সেজন্য সেখানে পর্যটন কী গড়ে তোলা হবে, সমুদ্রবন্দর অন্যত্র গড়ে তোলা হবে – এরকম একটা ধারণা উনি (প্রধানমন্ত্রী) আমাদের দিলেন। ব্রিফিংয়ের শেষের দিকে এ বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার জন্য পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়। তখন এম এ মান্নান বলেন, সেখানে সমুদ্রবন্দর থেকে সরে আসব – বিষয়টা এরকম না। এখানে আলোচনা হয়েছে যে, সোনাদিয়া সুন্দর জায়গা। এর বৈচিত্র রক্ষা করা হোক। গভীর সমুদ্রবন্দর হবে নাকি অগভীর হবে, না পর্যটন হবে- উই উইল ডিসাইড ইন ফিউচার (ভবিষ্যতে আমরা সিদ্ধান্ত নেব)। মূল কথা হলো, সোনাদিয়াকে অক্ষত রাখা হবে। সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসেই কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ঘোষণা দেয়। বিভিন্ন পর্যায় পেরিয়ে এসে আট বছরের মাথায় প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকলেও বর্তমানে আলোচিত এই মেগা প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, অর্থায়নের উৎস নিশ্চিত না হওয়ায় মূলত এই প্রকল্পটি থেমে গেছে। তবে সোনাদিয়া থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে মহেশখালীর মাতারবাড়িতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য যেখানে কয়লার জেটি নির্মাণ করা হচ্ছে, সেখানে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের বিষয় বিবেচনাধীন।

শর্টলিংকঃ